প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম জায়ান্ট ক্লাব চেলসির মালিকানায় এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। টড বোয়েলি এবং পরিচালক মার্ক ওয়াল্টারের শেয়ার কিনে নিয়ে ক্লাবটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে প্রাইভেট ইকুইটি কোম্পানি ক্লিয়ারলেক ক্যাপিটাল। বুধবার রাতে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে চেলসি কর্তৃপক্ষ এই মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
নতুন এই চুক্তির ফলে ক্লিয়ারলেকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বেহদাদ এঘবালি এবং হোসে ই ফেলিসিয়ানো এখন ক্লাবটির মূল চালিকাশক্তি। ২০২২ সালের মে মাসে রোমান আব্রামোভিচের কাছ থেকে ক্লাবটি কেনার সময় বোয়েলি ও ওয়াল্টার ক্লিয়ারলেকের সাথে অংশীদার ছিলেন। তবে বর্তমান চুক্তির মাধ্যমে তারা তাদের মালিকানা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। জানা গেছে, এই চুক্তিতে ক্লাবটির মোট মূল্যমান ধরা হয়েছে প্রায় ৫ বিলিয়ন পাউন্ড। তবে অপর বিনিয়োগকারী সুইস ধনকুবের হ্যান্সজর্গ উইস ক্লাবের অংশীদার হিসেবেই বহাল থাকছেন।
মালিকানার এই পালাবদলে উচ্ছ্বসিত চেলসির প্রধান কোচ জাবি আলোনসো। শুক্রবার ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এটি ক্লাবের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। সাবেক মালিকদের অবদানের কথা স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, বেহদাদ এঘবালির হাতে ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ আসায় সবকিছু এখন অনেক বেশি স্পষ্ট। বেহদাদের সাথে নিজের সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ক্লাবের লক্ষ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে তাদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
চেলসির নতুন মালিকপক্ষের লক্ষ্য এখন অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট। ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য হলো সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা, বড় বড় শিরোপা জয় করা এবং দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য নিশ্চিত করা। জাবি আলোনসো মনে করেন, যদিও সাফল্যের জন্য সময়ের প্রয়োজন, তবে ক্লাবের লক্ষ্য অর্জনে তারা সঠিক পথেই এগোচ্ছেন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে মালিকানা পরিবর্তনের পর থেকে চেলসি তাদের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে। ২০২৪-২৫ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে চতুর্থ স্থান অর্জন করা ছাড়াও ক্লাবটি উয়েফা কনফারেন্স লিগ এবং ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা নিজেদের শোকেসে যুক্ত করেছে। নতুন মালিকানায় চেলসি তাদের এই সাফল্যের ধারা কতটা দীর্ঘস্থায়ী করতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।