চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরের পাহাড়ি এলাকায় অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাঁড়াশি যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেল চারটা থেকে পুলিশ, এপিবিএন ও বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত একটি বৃহৎ দল এই অভিযান পরিচালনা করে।
বিকেল গড়িয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পাহাড়ি পথ ধরে একের পর এক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ি জঙ্গল সলিমপুরে প্রবেশ করতে শুরু করে। এ সময় পুরো এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়। কোথাও যৌথ বাহিনীর সদস্যরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন, আবার কোথাও চলে নিবিড় তল্লাশি। পাহাড়ি বিভিন্ন পথ ও জনপদে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন জোরালো উপস্থিতিতে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
অভিযান চলাকালে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মাসুদ আলম স্বয়ং জঙ্গল সলিমপুরে উপস্থিত হয়ে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি এলাকায় লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জানতে চান। একপর্যায়ে স্থানীয় এক বাসিন্দার কাছে জামাই ফারুক ও ইয়াছিনের মতো চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিষয়ে জানতে চেয়ে এসপি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সন্ত্রাসী বাহিনী যদি এদিকে আসে, তবে তাদের প্রতিহত করতে হবে। জবাবে ওই বাসিন্দা জানান, র্যাব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আগের অভিযানের পর থেকে এলাকায় অপরিচিত লোকজনের যাতায়াত এখন অনেকটাই কমে গেছে। এ সময় এসপি মাসুদ আলম স্থানীয়দের সতর্ক করে বলেন, কোনো অপরিচিত সন্ত্রাসীর সন্ধান পাওয়া গেলে তার রেহাই নেই।
পরে এসপি এলাকার এক নারীর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাকে আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করার আশ্বাস দিয়ে জানান যে, ভয় পাওয়ার কিছু নেই, আপনারা ভালো থাকুন। বিকেল পাঁচটার দিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জনসংযোগ) মোহাম্মদ রাসেল অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং সাধারণ মানুষের জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তা বিধানের জন্যই এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।