ঠাকুরগাঁওয়ে বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের সপ্তদশ মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

ঠাকুরগাঁওয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। প্রথমবারের মতো ঠাকুরগাঁও বাউল সম্রাট আব্দুল করিম পরিষদের উদ্যোগে বাউল সম্রাটের এই মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক স্মরণসভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শুক নদী সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ঠাকুরগাঁও বাউল সম্রাট আব্দুল করিম পরিষদ আহবায়ক মাহাবুব হোসেন রুবেল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম।

এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চলচ্চিত্র সম্পাদক ও লোক গবেষক-সাহিত্যিক রাজা শহিদুল ইসলাম, কথাসাহিত্যিক হোসেন মোতাহার, জেলা কালচারাল অফিসার আলমগীর কবির, সাংবাদিক ফজলে ইমাম বুলবুল এবং কবি ও সাংবাদিক গোলাম সারওয়ার সম্রাট। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক রেজাওনুল হক রিজু।

আলোচনা সভায় বক্তারা বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের জীবন ও কর্ম থেকে শিক্ষা নেওয়ার ওপর জোরালো তাগিদ দেন। তারা অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মাটি ও মানুষের গান, মানবতার জয়গান এবং এ দেশের লোকজ সংস্কৃতিতে বাউল সম্রাটের অনন্য অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। পাশাপাশি, আমাদের সমৃদ্ধ লোকজ সংস্কৃতি যেন হারিয়ে না যায়, সে জন্য যথাযথ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা কামনা করেন বক্তারা।

আলোচনা সভা শেষে বাউল সম্রাট আব্দুল করিমের অমর সৃষ্টি নিয়ে এক আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এ সময় জেলার স্থানীয় সংগীতশিল্পীদের পাশাপাশি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলামও গান পরিবেশন করে উপস্থিত শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন। অনুষ্ঠানে ‘গ্রামের নওজোয়ান হিন্দু মুসলমান’, ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’, ‘বসন্ত বাতাসে সইগো বসন্ত বাতাসে’ এবং ‘বন্ধু মায়া লাগাইছে পিরিত শিখাইছে’—এর মতো জনপ্রিয় গানগুলো পরিবেশিত হলে পুরো অনুষ্ঠানস্থল এক আবেগঘন ও মুখরিত পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

০%
০%
০%
০%