ফিফার বিতর্কিত বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে কাউন্সিলের মুখোমুখি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিতর্কিত ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ প্রকল্পের ব্যর্থতা নিয়ে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যালোচনা করা হবে। বৃহস্পতিবার ফিফার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাতিল হয়ে যাওয়া এই প্রকল্পের বিস্তারিত প্রতিবেদন বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ ‘ফিফা কাউন্সিল’-এর সামনে উপস্থাপন করা হবে। ডেনমার্ক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান জেসপার মোলারের কঠোর সমালোচনার মুখেই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলো সংস্থাটি।

এর আগে গত সপ্তাহে জেসপার মোলার অভিযোগ করেছিলেন যে, ফিফার লিগ্যাল কমিটির সভায় এই পরিত্যক্ত প্রকল্প নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। ইনফান্তিনোর এই বিতর্কিত পরিকল্পনা ছিল ফিফার বিভিন্ন টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বত্ব বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া। এই প্রস্তাবটি বিশ্ব ফুটবলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয় এবং উয়েফা, এএফসি ও কনকাকাফসহ বিভিন্ন কনফেডারেশন ফিফার বর্তমান নেতৃত্ব কাঠামোর পরিবর্তনের দাবি তোলে। এমনকি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছিল।

ফিফা কাউন্সিলের ৩৭ জন সদস্যের সামনে এই পর্যালোচনার বিষয়টি তুলে ধরা হবে, যেখানে স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ইনফান্তিনো ছাড়াও আটজন ভাইস-প্রেসিডেন্ট এবং সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর দ্বারা নির্বাচিত ২৮ জন প্রতিনিধি রয়েছেন। এদিকে, ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের বিরোধিতা করে গ্রিস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মাকিস গাগাতসিস এবং জার্মানি জাতীয় দলের সাবেক পরিচালক অলিভার বিয়ারহফসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

যদিও ইনফান্তিনোর বিরোধীরা তার ক্ষমতার লাগাম টেনে ধরার জন্য নতুন কৌশল নিয়ে ভাবছেন, তবে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২০২৭ সালের ১৮ মার্চ রাবাতে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চতুর্থ মেয়াদে জয়ী হওয়ার মতো যথেষ্ট সমর্থন এখনো ইনফান্তিনোর রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ফিফা কাউন্সিলের এই পর্যালোচনা সভায় প্রকল্পটি নিয়ে কী ধরনের সিদ্ধান্ত আসে এবং বিশ্ব ফুটবলের এই সংকটময় মুহূর্তে নেতৃত্বের ওপর এর প্রভাব কতটা পড়ে।

০%
০%
০%
০%