গাভিকে ৬০ কোটি ডলার সহায়তা যুক্তরাষ্ট্রের, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অর্থায়ন বন্ধের ঘোষণা

বিশ্বব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে গঠিত জোট ‘গ্যাভি’-তে ৬০০ মিলিয়ন ডলার অনুদান প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন একটি কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে; যার আওতায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে (ডব্লিউএইচও) এই জোটের সব ধরনের কার্যক্রম ও অর্থায়ন থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও স্বাস্থ্য এবং মানবসেবা দপ্তরের এক যৌথ বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে, যা জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠনটির জন্য একটি বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুযায়ী, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা সচিব রবার্ট কেনেডি জুনিয়র এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে গ্যাভির সাথে নতুন করে চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে আলোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউসের এই অবস্থানের বিপরীতে রিপাবলিকান সিনেটর সুজান কলিন্স গ্যাভির প্রতি এই অনুদান পুনর্বহালের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গ্যাভি কর্তৃপক্ষ তাদের টিকা কর্মসূচিতে পারদযুক্ত উপাদানের পরিবর্তে নিরাপদ বিকল্প ব্যবহারের বিষয়েও মার্কিন সরকারের সাথে একমত হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ দীর্ঘদিনের পারস্পরিক বৈরিতার নতুন বহিঃপ্রকাশ। এর আগে ২০২০ সালে করোনা মহামারি মোকাবিলায় ব্যর্থতা এবং চীনের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগ তুলে ট্রাম্প সংস্থাটির অর্থায়ন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিলেন। ২০১৯ সালে সংস্থাটির মোট বাজেটের প্রায় ১৫ শতাংশ বা ৪০০ মিলিয়ন ডলার জোগান দিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যা ছিল তৎকালীন সময়ে সবচেয়ে বড় অনুদান। যদিও ২০২১ সালে জো বাইডেন ক্ষমতায় এসে এই সিদ্ধান্ত উল্টে দিয়েছিলেন, কিন্তু ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই ট্রাম্প পুনরায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণা দিয়ে সব ধরনের অর্থায়ন স্থগিত করেন।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রশাসনের এই ধারাবাহিক নীতি কৌশলগত অবস্থানের চেয়ে আদর্শগত বিরোধেরই বেশি প্রতিফলন। বর্তমানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মোট বাজেট প্রায় ৩.৪ বিলিয়ন ডলার, যা যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-এর ২০২৩ সালের বাজেটের এক-তৃতীয়াংশেরও কম। এই সংস্থাটির তহবিল মূলত পোলিও, যক্ষ্মা, এইচআইভি, ম্যালেরিয়া এবং হামের মতো প্রাণঘাতী রোগ নির্মূলে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে গাজা, সুদান এবং গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত ও সংকটাপন্ন অঞ্চলে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে ডব্লিউএইচও-এর এই ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
