AdvertisementAdvertisement

নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে দীর্ঘ নীরবতা ভাঙলেন রাঘব চাড্ডা প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ডাক বিজেপির রাজ্যসভা সাংসদের

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ড নিয়ে দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে অবশেষে মুখ খুললেন রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চাড্ডা। পাবলিক এক্সামিনেশন বা জনপরীক্ষা (অনৈতিক উপায় প্রতিরোধ) সংশোধনী বিল, ২০২৬ রাজ্যসভায় পাস হওয়ার প্রাক্কালে তিনি এই ইস্যুতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। দীর্ঘ সময় ধরে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সোচ্চার থাকলেও নিট কেলেঙ্কারির ঘটনায় তাঁর নীরবতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। অবশেষে সংসদীয় বিতর্কে অংশ নিয়ে তিনি এই বিষয়ে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করেন।

সাংসদ রাঘব চাড্ডা নিজের ভূমিকার পরিবর্তনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জানান, অতীতে বিরোধী শিবিরের সদস্য হিসেবে তাঁর কাজ ছিল প্রশ্ন তোলা, কিন্তু বর্তমানে ট্রেজারি বেঞ্চে থেকে তাঁর লক্ষ্য সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, সমস্যার সমাধান খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত তিনি নীরব থাকার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। ভারতর ছাত্র ও যুবসমাজের স্বার্থে সরকার তাদের দাবি শুনেছে এবং প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করছে বলেও তিনি দাবি করেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ২২ লক্ষ শিক্ষার্থী তিনটি ঘণ্টার পরীক্ষার জন্য প্রতিদিন ১৮ ঘণ্টা কঠোর পরিশ্রম করে। কিন্তু একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা কিংবা টেলিগ্রামের পিডিএফ ফাইলের কারণে সেই পরিশ্রম ধূলিসাৎ হয়ে যায়। তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসকে একটি ক্যানসারের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, সাধারণ ওষুধে এই মরণব্যাধির নিরাময় সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন গভীর প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার।

রাঘব চাড্ডা দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, এই নতুন বিলের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বিশ্বাস করেন, এই আইনের ফলে পরীক্ষা ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ হবে এবং মেধাবীরা যথাযথ মর্যাদা পাবে। এছাড়া ভারতর প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও যন্ত্রণাকে অভিভাবকসুলভ সহমর্মিতার সঙ্গে গ্রহণ করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য যে, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিও উঠেছিল তুঙ্গে। চাপের মুখে সেই দাবি পূরণ হওয়ার পর এবং নতুন আইন পাসের মুহূর্তে রাঘব চাড্ডার এই বক্তব্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, নতুন এই ব্যবস্থায় শিক্ষা মাফিয়াদের পরাজয় ঘটবে এবং ভারতের ছাত্রসমাজই শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%