মিরপুরে রাকিবুল হত্যা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল

২০২৪ সালের জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় রাকিবুল হোসেন নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্ত শেষে এই অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে, যেখানে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় ৪৯ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. মমিনুল ইসলাম গত ১৩ জুলাই আদালতে এই প্রতিবেদন দাখিল করেন।
অভিযোগপত্রে নাম থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ এবং সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান। এছাড়া বিপ্লব কুমার, মাইনুল হোসেন খান নিখিল, কামাল আহমেদ মজুমদার, ইলিয়াস মোল্লা এবং এস এম মান্নান কচিসহ প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদেরও অভিযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, কিছু ব্যক্তির নাম অসৎ উদ্দেশ্যে এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যার ফলে তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
অব্যাহতি পাওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন খান, কামরুল আরেফিন, গালিবুর রহমান শরীফ, ব্যবসায়ী লোকমান হোসেন ও ইলিয়াস আহমেদ তালুকদার। তদন্তে উঠে এসেছে যে, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তৎকালীন সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ পর্যায় থেকে কঠোর দমন-পীড়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। শেখ হাসিনাসহ অভিযুক্তরা উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সমন্বিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই রাতে মিরপুর-১০ গোলচত্বরে মিছিলে গুলিবর্ষণের সময় রাকিবুল হোসেনের ঘাড়ে গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তৎকালীন অস্থির পরিস্থিতির কারণে ময়নাতদন্ত ছাড়াই ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে তার মরদেহ দাফন করা হয়। পরবর্তীতে ২০ সেপ্টেম্বর নিহতের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিকী মিরপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নিহত রাকিবুল হোসেন মিরপুর ক্যান্টনমেন্টে অবস্থিত এমআইএসটি থেকে যন্ত্রকৌশলে স্নাতক সম্পন্ন করেছিলেন এবং একটি প্রতিষ্ঠানে সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মামলার বাদী আবু বক্কর সিদ্দিকী জানান, তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করেন। তদন্ত চলাকালে নিহতের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরিবারের আপত্তির কারণে তা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
