জলবায়ু সহিষ্ণু নতুন ধানের জাত অবমুক্তসহ কৃষি ও মৎস্য খাতে বড় উদ্যোগ সরকারের

জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষি উৎপাদন সুরক্ষা ও ফসলের নতুন জাত উদ্ভাবনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, হাওর অঞ্চলের কৃষকদের সুরক্ষায় আগামী মৌসুমে ‘ব্রি ধান-১১৮’ অবমুক্ত করা হবে। শীত সহনশীল এই জাতটি আগাম রোপণ ও কর্তনযোগ্য হওয়ায় আকস্মিক বন্যার আগেই ফসল ঘরে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা মাঠপর্যায়ে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করবে।
শনিবার কুমিল্লা সার্কিট হাউসে কৃষি ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি আরও জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিকূলতা জয় করতে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন এবং আগামী বছর লবণাক্ততা সহনশীল আরও একটি নতুন ধানের জাত উন্মোচনের পরিকল্পনা রয়েছে।
কুমিল্লা স্থলবন্দর দিয়ে মৎস্য রপ্তানির সম্ভাবনার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং এ লক্ষ্যে বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে আলোচনা সাপেক্ষে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া কুমিল্লাহ অঞ্চলে মাছের ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আধুনিক বিপণন অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের ভোক্তাদের কাছে তাজা মাছ পৌঁছে দেওয়া সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রাণিসম্পদ খাতের বিকাশে সরকার বড় ধরনের বিনিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদ্যমান ভ্যাকসিন উৎপাদন কেন্দ্র সম্প্রসারণের একটি বৃহৎ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা কমে আসবে। এর ফলে দেশের প্রাণিসম্পদ খাত আরও শক্তিশালী ও স্বনির্ভর হয়ে উঠবে।
চলমান খাল পুনঃখনন কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে মন্ত্রী জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এসব প্রকল্পের শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে। সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে প্রয়োজনীয় বীজ ও কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে এবং বন্যাকবলিত এলাকায় গবাদিপশুর রোগ প্রতিরোধে বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো: খোরশেদ আলম, জেলা প্রশাসক রোজী আকতার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক মো: ওবায়দুর রহমান মন্ডলসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় কৃষি ও মৎস্য খাতের আধুনিকায়নে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে সভার বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
