উত্তরখানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর হামলা ও ডিএনসিসি প্রশাসকসহ এমপির ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ

রাজধানীর উত্তরখানের রাজাবাড়িতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনের (এসটিএস) কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গত রবিবার সকালে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর হামলার রেশ ধরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে খোদ ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। যদিও হামলায় কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার প্রাণহানির সংবাদ পাওয়া যায়নি, তবে এ ঘটনা গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।
ডিএনসিসির জনসংযোগ বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাজাবাড়ি এলাকার নেপচুন এক্সেসরিজ গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষের মদদপুষ্ট লোকজন এসটিএস প্রকল্পের কার্যক্রমে বাধা প্রদান করে। একপর্যায়ে তাদের ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা কর্মরত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ১৫ থেকে ২০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী আহত হন, যাদের মধ্যে চারজনকে গুরুতর অবস্থায় উত্তরা কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনার লক্ষ্যে প্রশাসক, সংসদ সদস্য এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হামলাকারীরা সরকারি দায়িত্বপালনরত কর্মকর্তাদের ওপরও ইটপাটকেল ছুড়ে মারতে দ্বিধা করেনি। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে গার্মেন্টস মালিকপক্ষের এক ব্যক্তিসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
ঘটনার পর এলাকাটিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। আহত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দেখতে হাসপাতালে গিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় কাজে বাধা প্রদানকারী এবং কর্মীদের ওপর হামলাকারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত চলছে এবং নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় স্থানীয় প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে ডিএনসিসি প্রশাসন।
