রেকর্ড তাপদাহে বিপর্যস্ত দক্ষিণ কোরিয়া, জলবায়ু পরিবর্তনে বিশ্বজুড়ে চরম দুর্যোগের শঙ্কা

মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে অসহনীয় তাপপ্রবাহের প্রকোপ। দক্ষিণ কোরিয়া তার ইতিহাসে গত ১০০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড গড়েছে। দেশটির আবহাওয়া প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২৬ মিনিটে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ইয়াংসানে তাপমাত্রা ৪২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। টানা পাঁচ দিন ধরে শহরটিতে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গণ্ডি অতিক্রম করেছে, যা জনজীবনে ভয়াবহ বিপর্যয়ের সৃষ্টি করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার আবহাওয়া প্রশাসনের তথ্যমতে, ইয়াংসানসহ দেশটির বিশটিরও বেশি অঞ্চলে জরুরি তাপপ্রবাহের সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। চলতি বছর তীব্র দাবদাহ মোকাবেলায় প্রথমবারের মতো এই বিশেষ সতর্কবার্তা চালু করা হয়। যখন কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস কিংবা অনুভূত তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হওয়ার পূর্বাভাস থাকে, তখনই এই জরুরি সতর্কতা প্রদান করা হয়। ১৯৭০-এর দশকে দেশটিতে বছরে গড়ে আট দিন তাপপ্রবাহ থাকলেও, গত পাঁচ বছরে তা বেড়ে ১৯ দিনে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্বব্যাপী চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়ার এই চিত্র কেবল দক্ষিণ কোরিয়াতেই সীমাবদ্ধ নয়। জাপানের ৪৭টি প্রশাসনিক অঞ্চলের মধ্যে ৩০টিতেই তাপজনিত অসুস্থতার সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা। এদিকে ইউরোপের গ্রিসে দাবানল ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন। পাশাপাশি স্পেন ও ফ্রান্সে শুষ্ক ও উত্তপ্ত আবহাওয়ায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি নতুন করে তীব্র হয়েছে।
উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া এবং মরক্কোতেও প্রচণ্ড দাবদাহ ও শক্তিশালী বাতাসের কারণে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। তিউনিসিয়া এই দুর্যোগ মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক অগ্নিনির্বাপক বিমান মোতায়েন করেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলেও বিপজ্জনক তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে, যা দাবদাহে আগে থেকেই বিপর্যস্ত অঞ্চলগুলোতে নতুন করে আগুনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট জলবায়ু সংকটই মূলত এই ধরনের চরম আবহাওয়াকে আরও ঘন ঘন, দীর্ঘস্থায়ী এবং শক্তিশালী করে তুলছে। বিশ্বজুড়ে খরা, দাবানল, বন্যা এবং শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিজ্ঞানীরা একে একটি বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। পরিবেশবিদেরা সতর্ক করে বলেছেন, কার্বন নিঃসরণ কমানোর কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে পৃথিবীকে আরও ভয়ংকর তাপমাত্রার মুখোমুখি হতে হবে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
