AdvertisementAdvertisement

অস্ট্রেলিয়ায় নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে অবিচল কিশোর-কিশোরীরা

অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কয়েক মাস পার হলেও পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। দেশটির ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ই-সেফটি’-এর এক সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে, আট জনেরও বেশি কিশোর-কিশোরী সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছে। গত ডিসেম্বর মাসে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া এই কঠোর আইন কার্যকর করেছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের প্রবণতা গত ডিসেম্বরের নিষেধাজ্ঞার আগের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগের ৮৬ শতাংশের তুলনায় বর্তমানে ৮১ শতাংশেরও বেশি শিশু এখনো বিভিন্ন বয়স-সীমাবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে। মূলত প্রযুক্তিনির্ভর কিশোর-কিশোরীদের ভিপিএন বা ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট তৈরি এবং প্ল্যাটফর্মগুলোর কার্যকর বয়স যাচাইকরণ ব্যবস্থার ব্যর্থতাই এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

অস্ট্রেলিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলস গত জানুয়ারি মাসে দাবি করেছিলেন যে, সরকার বিশ্বের শক্তিশালী প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বাধা উপেক্ষা করে প্রায় ৪৭ লাখ শিশুতোষ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো, অধিকাংশ শিশু খুব সহজেই নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে পারছে। কারণ হিসেবে প্রায় অর্ধেক শিশু জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কর্তৃপক্ষ তাদের বয়স যাচাইয়ের কোনো পদক্ষেপই গ্রহণ করেনি।

এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা শুরু থেকেই সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। ডিজিটাল সুস্থতা বিষয়ক গবেষক জোয়ানা অরল্যান্ডো জানিয়েছিলেন, প্রযুক্তিপ্রেমী কিশোর-কিশোরীরা ভিপিএন বা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে সহজেই বিধিনিষেধ এড়িয়ে চলছে। এদিকে অস্ট্রেলীয় সরকারের সহকারী মন্ত্রী অ্যান্ড্রু লেই এই আইনের পক্ষ নিয়ে যুক্তি দিয়েছেন যে, এর মাধ্যমে অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে একটি জাতীয় বিতর্ক সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যেকোনো আইনের ক্ষেত্রেই শতভাগ বাস্তবায়ন কঠিন, তবে শিশুদের সুরক্ষায় এই আইন থাকা অত্যন্ত জরুরি।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, সাইবার বুলিং, যৌন হয়রানি এবং আত্মহননমূলক কনটেন্ট থেকে শিশুদের রক্ষা করার লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়া এই পদক্ষেপ নিয়েছিল। তবে বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নতুন ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘ শিশু তহবিল ইউনিসেফের তথ্যমতে, বিশ্বজুড়ে শিশুরা এখন অনলাইনে এআই প্রযুক্তি অপব্যবহারের মাধ্যমে তৈরি ‘ডিপফেক’ এবং যৌন শোষণের শিকার হওয়ার আতঙ্কে রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার এই উদ্যোগের পর যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক, মালয়েশিয়া এবং গ্রিসের মতো দেশগুলোও একই পথে হাঁটার পরিকল্পনা করছে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য ২০২৭ সালের বসন্ত থেকে টিকটক ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে শিশুদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর অকার্যকর বয়স যাচাইকরণ ব্যবস্থা এবং কিশোর-কিশোরীদের প্রযুক্তিগত চাতুর্য এই বৈশ্বিক বিধিনিষেধগুলোর কার্যকারিতাকে প্রতিনিয়ত প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%