অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো গণহারে সামুদ্রিক পাখি মৃত্যু এইচ৫এন১ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত

অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড উপকূলের অদূরে সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় প্রথমবারের মতো বার্ড ফ্লুর ব্যাপক প্রাদুর্ভাবে অর্ধশতাধিক গ্রেটার ক্রেস্টেড টার্ন পাখির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দেশটির কৃষিমন্ত্রী জুলি কলিন্স বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, গত শুক্রবার কেপ জাফা নামক স্থানে হেলিকপ্টার নজরদারির সময় ৪৯টি মৃত ও ৩৫টি অসুস্থ পাখি উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী পরীক্ষায় সেগুলোতে এইচ৫এন১ ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া সরকার সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে, বন্যপাখির অবাধ বিচরণের কারণে এই ভাইরাসের সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। ফেডারেল পরিবেশমন্ত্রী মারে ওয়াট স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বন্য ও স্থানীয় পাখিদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব, তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাণহানির ঘটনা আরও বাড়তে পারে। জুন মাসে প্রথমবার শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই দেশটির খামারগুলোতে কঠোর জৈব সুরক্ষা ব্যবস্থা জারি রাখা হয়েছে।
বর্তমানে দেশটির পোল্ট্রি খামারগুলো ঝুঁকিমুক্ত থাকলেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গবাদি পশু থেকে শুরু করে উপকূলীয় পাখি পর্যন্ত ভাইরাসটির সংক্রমণের ঝুঁকি মোকাবিলায় অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে খামারের নিরাপত্তা বৃদ্ধি, বন্যপাখির ওপর নিয়মিত পরীক্ষা এবং ঝুঁকিপূর্ণ প্রজাতিগুলোকে টিকার আওতায় আনা।
উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে গত কয়েক বছরে এইচ৫এন১ ভাইরাসের সংক্রমণে কোটি কোটি পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণীর মৃত্যু হয়েছে, যা পোল্ট্রি শিল্পে কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংক্রামিত প্রাণীর সংস্পর্শে এলে মানুষের মধ্যেও এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বর্তমানে মানুষের জন্য এর ঝুঁকির মাত্রা খুবই সামান্য। বিশ্বের সর্বশেষ মহাদেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া এই মরণঘাতী ভাইরাসের কবলে পড়ল।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
