কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং দুর্ঘটনায় নিহত অক্ষরের শেষকৃত্য সম্পন্ন, পরিবারের জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণের দাবি

কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত অক্ষর সৌভিক রায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার দুপুরে খুলনা মহানগরীর রূপসা মহাশ্মশানে তার দাহ সম্পন্ন হয়। এর আগে বেলা ১১টার দিকে অক্ষরের মরদেহ লোয়ার যশোর রোডের ভাড়া বাসায় পৌঁছালে সেখানে স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে মা ও দুই বোন শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন।
নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পরিবারটি বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। অক্ষরের ভগ্নিপতি মো. আলিমুশ্বান সিফাত জানান, যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকা এবং চরম অব্যবস্থাপনার কারণেই এই অকাল মৃত্যু ঘটেছে। সরকার পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট প্যারাসেইলিং কার্যক্রমটিকে অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত করার পরও কীভাবে তা চলছিল, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
নিহত অক্ষরের পরিবার বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। অক্ষরের উপার্জনের ওপরই নির্ভরশীল ছিল তার মা ও দুই বোন। এ অবস্থায় পরিবারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তার স্বজনরা। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ পর্যটন সেবার নামে অনিয়ম ও তদারকির অভাবের বিষয়টি তদন্তের আওতায় এনে দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
বন্ধুমহলে প্রিয় অক্ষর ছিলেন অত্যন্ত প্রাণবন্ত। গত ৩১ জুলাই বাবার জন্মদিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন পোস্ট দেওয়ার পরদিনই এমন মর্মান্তিক মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না তার বন্ধুরা। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ও নিহতের পরিবার দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
