AdvertisementAdvertisement

৫৫ লাখ উপকারভোগীর জন্য ১৫ টাকা কেজি দরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণ শুরু

দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে চাল বিতরণের বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় নিবন্ধিত উপকারভোগীরা এখন থেকে প্রতি কেজি ১৫ টাকা মূল্যে মাসে ৩০ কেজি করে চাল সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছেন। গত শনিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমটি আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত চলমান থাকবে। এরপর ২০২৭ সালের মার্চ ও এপ্রিল—এই দুই মাস পুনরায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে বলে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

দেশজুড়ে ৪৯৫টি উপজেলায় ৫৫ লাখ কার্ডধারী উপকারভোগী এই সুবিধার আওতায় এসেছেন। এর মধ্যে ২৪৮টি উপজেলার ২৫ লাখ ২৯ হাজার উপকারভোগী পাচ্ছেন পুষ্টিসমৃদ্ধ চাল এবং ২৪৭টি উপজেলার ২৯ লাখ ৭১ হাজার উপকারভোগী পাচ্ছেন সাধারণ চাল। ডিলারদের নির্ধারিত পয়েন্ট থেকে উপকারভোগীরা তাদের বরাদ্দকৃত চাল সংগ্রহ করতে পারছেন। উল্লেখ্য, ২০২২-২০২৩ অর্থবছর থেকে চালের কেজিপ্রতি মূল্য ১০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

শহরাঞ্চলের জন্য ওএমএস বা খোলাবাজারে চাল ও আটা বিক্রির কার্যক্রমও সমান্তরালে চলমান রয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে ১ হাজার ১০৮টি বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে নিয়মিত এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সরকার মূলত বছরের ওই ছয় মাসকে চিহ্নিত করেছে, যখন নিম্ন আয়ের মানুষের কাজের সুযোগ ও আয় তুলনামূলক কম থাকে। আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত চার মাস এবং পরবর্তী বছরের মার্চ ও এপ্রিল—এই সময়গুলোতে খাদ্য সহায়তা জোরদার করা হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

দেশের সরকারি খাদ্য মজুত বর্তমানে অত্যন্ত সন্তোষজনক অবস্থানে রয়েছে। সর্বশেষ ২ আগস্টের হিসাব অনুযায়ী, মজুতের পরিমাণ ২৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩৮৫ টন, যার মধ্যে চালের পরিমাণ ১৯ লাখ ৬৬ হাজার ১৪৮ টন, গমের পরিমাণ ২ লাখ ৮০ হাজার ১০ টন এবং ধানের পরিমাণ ১ লাখ ৫২ হাজার ১০৯ টন। ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে গ্রামাঞ্চলের বিধবা, বয়স্ক এবং দুস্থ নারী পরিবারপ্রধানদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সরকারের অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, গ্রামাঞ্চলে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি এবং শহরাঞ্চলে ওএমএস—উভয় খাতেই সরকার বিশাল অংকের ভর্তুকি প্রদান অব্যাহত রেখেছে, যার মূল লক্ষ্য হলো খাদ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি থেকে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া।

0%
0%
0%
0%