AdvertisementAdvertisement

জীবন বীমা করপোরেশনের রাইডার সুবিধায় নতুন কঠোর শর্ত ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক

রাষ্ট্রায়ত্ত জীবন বীমা করপোরেশন বা জেবিসি তাদের বিমা পলিসির আওতায় বাড়তি সুরক্ষামূলক রাইডার সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত আরোপ করেছে। গত ২৬ জুলাই জারি করা নতুন নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এখন থেকে গুরুতর রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং স্বাস্থ্য–তথ্য গোপনকারী কোনো গ্রাহক এই বাড়তি সুবিধা পাবেন না। মূলত বিমা দাবি নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকি মূল্যায়ন পদ্ধতিকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, জীবন বীমার মূল পলিসির সঙ্গে যুক্ত রাইডার সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই সুস্থ, স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম হতে হবে। কোনো গ্রাহক যদি আগে থেকেই ক্যানসার, হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক, কিডনি বিকল, লিভার সিরোসিস বা পক্ষাঘাতের মতো গুরুতর অসুস্থতায় আক্রান্ত হন, তবে তিনি এই সুবিধার আওতার বাইরে থাকবেন। এমনকি গত দুই বছরের মধ্যে কোনো গুরুতর শারীরিক সমস্যার কারণে হাসপাতালে ভর্তি বা চিকিৎসার ইতিহাস থাকলেও বাধ্যতামূলকভাবে চিকিৎসা প্রতিবেদনসহ বিশেষ মেডিক্যাল মূল্যায়ন সম্পন্ন করতে হবে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এই রাইডার সুবিধা মূলত মূল বিমা পলিসির একটি বাড়তি অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা অতিরিক্ত প্রিমিয়াম প্রদানের মাধ্যমে সুরক্ষার পরিধি বৃদ্ধি করে। তাই মূল পলিসি যদি কোনো কারণে বাতিল বা ল্যাপস হয়ে যায়, তবে সংশ্লিষ্ট রাইডার সুবিধাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর থাকবে না। আবেদনকারীদের লিপিড প্রোফাইল ও সিরাম ক্রিয়েটিনিনসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন বাধ্যতামূলকভাবে জেবিসির আঞ্চলিক বা করপোরেট অফিসে জমা দিতে হবে। তথ্য গোপনের মাধ্যমে রাইডার সুবিধা গ্রহণ করলে দাবি প্রত্যাখ্যানসহ প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

জেবিসির নীতিনির্ধারক ও কর্মকর্তাদের মতে, অতীতে গ্রাহকদের একটি অংশ জেনেশুনে স্বাস্থ্য–তথ্য গোপন করে রাইডার সুবিধা গ্রহণ করছিলেন, যার ফলে দাবি নিষ্পত্তির সময় আইনি জটিলতা ও বিরোধের সৃষ্টি হতো। এছাড়া শাখাভেদে ভিন্ন ভিন্ন নিয়ম অনুসরণ করায় ঝুঁকি মূল্যায়নে অসামঞ্জস্যতা দেখা দিয়েছিল। এসব অনিয়ম দূর করে গ্রাহক ও প্রতিষ্ঠান উভয়ের স্বার্থ রক্ষার্থেই নতুন এই ১৪টি নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বর্তমানে জীবন বীমা করপোরেশনের শীর্ষ নেতৃত্বে কিছুটা শূন্যতা বিরাজ করছে, যেখানে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. মোখলেস উর রহমান পদত্যাগ করেছেন। বর্তমানে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ কুতুব ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, রাইডার সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে যে বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম পরিলক্ষিত হচ্ছিল, তা নিরসনেই জেবিসি এই সময়োপযোগী ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

0%
0%
0%
0%