বৈশ্বিক বাজারে বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা পূরণের চাপে বিওয়াইডি ও হাঙ্গেরিতে কারখানা নিয়ে অনিশ্চয়তা

বৈশ্বিক বৈদ্যুতিক গাড়ি বাজারে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে কঠোর প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হয়েছে চীনা জায়ান্ট বিওয়াইডি। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই মাসে কোম্পানিটি ৪ লাখ ২০ হাজার গাড়ি বিক্রি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ বেশি। টানা তৃতীয় মাসের মতো বিক্রির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকলেও, বার্ষিক বিক্রির উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কোম্পানিটিকে এখন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।
বছরের প্রথমার্ধে বিওয়াইডি বিশ্বজুড়ে ১৮ লাখ গাড়ি সরবরাহ করেছে। তবে ২০২৬ সালের মধ্যে ৫০ লাখ থেকে ৫৫ লাখ গাড়ি বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ করতে হলে, বছরের অবশিষ্ট মাসগুলোতে প্রতি মাসে গড়ে ৫ লাখ ৩০ হাজার ইউনিট গাড়ি বিক্রি করতে হবে। কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াং ছুয়ানফুর জন্য এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন একটি বড় পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে, বিশেষ করে যখন উন্নত ব্যাটারি প্রযুক্তিতে রূপান্তরের জন্য বছরের শুরুতে তাদের কয়েকটি উৎপাদন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছিল।
চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে দুর্বল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং তীব্র প্রতিযোগিতার বিপরীতে বিওয়াইডি এখন রপ্তানি বাণিজ্যে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। জুলাই মাসের মোট বিক্রির ৪৩ শতাংশই এসেছে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে। দক্ষিণ আমেরিকা ও ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বাজার সম্প্রসারণে আগ্রাসী কৌশল গ্রহণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারেও বিওয়াইডির গাড়ির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। চলতি বছরের শুরুতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরুর পর থেকেই ঢাকার সড়কে বৈদ্যুতিক গাড়ির সংখ্যা বেড়েছে, এবং বর্তমানে দেশে সাড়ে তিন শয়ের বেশি বিওয়াইডি গাড়ি সচল রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে নানা জটিলতাও তৈরি হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শুল্ক ও বাণিজ্যিক বাধা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা বিওয়াইডির রপ্তানি সক্ষমতার ওপর গভীর নজর রাখছেন। বাজারে অবস্থান সুসংহত করতে তারা সিল ৬ সিরিজের ডিএম-আই ৫.০ হাইব্রিড প্রযুক্তিসহ নতুন নতুন মডেল উন্মোচন করলেও, হাঙ্গেরিতে তাদের বড় প্রকল্প হোঁচট খেয়েছে।
হাঙ্গেরির সেজেদ শহরে নির্মাণাধীন প্রধান কারখানায় শ্রমিক নির্যাতনের অভিযোগ এবং সরকারি ভর্তুকি ও কর ছাড় নিয়ে তদন্ত শুরু হওয়ায় প্রকল্পটির সময়সূচি পিছিয়ে গেছে। পূর্বে ২০২৫ সালে উৎপাদনের পরিকল্পনা থাকলেও, সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী বিওয়াইডি ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে এই কারখানায় গাড়ি সংযোজন শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে বিশ্ববাজারে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান ধরে রাখা কোম্পানিটির জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
