রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের পঞ্চম বছরে প্রাণহানি ও পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি

চলমান যুদ্ধের পঞ্চম বর্ষে পদার্পণের সাথে সাথে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উভয় দেশের অন্তত ১২ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের ভয়াবহতায় সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও উভয় পক্ষই বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কনদ্রাতিয়েভ জানিয়েছেন, সোমবার কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী জেলেনজিখ শহরে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার ধ্বংসাবশেষের আঘাতে অন্তত ৬ জন নিহত ও ৪০ জন আহত হয়েছেন। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়ার গভর্নর সের্গেই আকসিওনভ জানিয়েছেন, গভীর রাতে ইউক্রেনের হামলায় আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২ জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে ইউক্রেনের দিনিপ্রোপেত্রভস্ক অঞ্চলে রাশিয়ার এক ভয়াবহ হামলায় অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছেন। আঞ্চলিক গভর্নর ওলেক্সানদ্র হানঝা জানিয়েছেন, একটি গ্যাস স্টেশনে এই হামলার পর সেখানে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়, যা আশপাশের বেশ কয়েকটি যানবাহনকে গ্রাস করে ফেলে। বারবার হামলার শিকার হওয়া এই অঞ্চলটিতে যুদ্ধের আঁচ প্রবলভাবে অনুভূত হচ্ছে।
এদিকে রণক্ষেত্রের সমীকরণ বদলাতে থাকা রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে, তাদের বাহিনী পূর্ব ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলের বিলি কোলোদিয়াজ এবং উসপেনিভকা জনপদ দুটি দখলে নিতে সক্ষম হয়েছে। একই সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার জনপ্রিয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘ওয়াইল্ডবেরিজ’-এর একটি গুদাম লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার ভ্লাদিমির অঞ্চলের খ্রিয়স্তোভো গ্রামে অবস্থিত ওই গুদামটি ইউক্রেনীয় বাহিনীর হামলার শিকার হয়।
কিয়েভ থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ‘ওয়াইল্ডবেরিজ’-এর বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় সরাসরি সহায়তার অভিযোগ তুলেছেন। বিভিন্ন স্বাধীন তদন্তে উঠে এসেছে যে, প্রতিষ্ঠানটি যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য হেলমেট, বুলেটপ্রুফ ভেস্ট এবং ড্রোনের ফাইবার অপটিক ক্যাবলের মতো দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্য সরবরাহ করছে।
চলমান এই পরিস্থিতির মধ্যে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠক করেছেন। তবে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেশটিকে পেট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স প্রদানের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যা কিয়েভের জন্য নতুন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
