মৃত শিক্ষকের বেতন উত্তোলনের অভিযোগের নেপথ্যে ভিন্ন তথ্য সুপারের লাপাত্তা

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার ভেলা ওমরিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ২০ বছর মৃত শিক্ষকের বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ নিয়ে জনমনে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রচারের পর বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়, যেখানে উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক মহিউদ্দিন মৃত শিক্ষকের তথ্য ব্যবহার নয়, বরং দাপ্তরিক ভুল সংশোধনের মাধ্যমেই বেতন উত্তোলন করে আসছেন।
অভিযোগের বিবরণে উল্লেখ ছিল, ১৯৯৪ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত মৃত এক শিক্ষকের ইনডেক্স ও ব্যাংক হিসাব নম্বর ব্যবহার করে মো. মহিউদ্দিন অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাৎ করছেন। কিন্তু রূপালী ব্যাংকের তজুমদ্দিন শাখার ব্যবস্থাপক মো. মহিবুল হাসানের ভাষ্যমতে, অভিযুক্ত শিক্ষক নিয়মিত তার নিজস্ব ব্যাংক হিসাব থেকেই বেতন গ্রহণ করেন। এছাড়া ২০১১ সালে হিসাব সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক যথাযথ নিয়ম মেনে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে শিক্ষা বোর্ডের মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করে তা সংশোধন করে নিয়েছিলেন।
তদন্তে জানা যায়, ২০১৩ সালে নতুন ব্যাংক হিসাব খোলার পর থেকে শিক্ষক মহিউদ্দিন স্বচ্ছতার সাথেই বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন। এই বিতর্কের পেছনে মূল ভূমিকা পালনকারী ওই মাদ্রাসার সুপার মো. নুরুজ্জামানকে নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। কেননা, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসে বেতন শিটে সুপার নিজেই স্বাক্ষর করেন, যার ভিত্তিতে শিক্ষক মহিউদ্দিন বেতন পেয়ে থাকেন। অথচ তিনিই উল্টো অভিযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গিয়েছেন।
সম্প্রতি এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গেলে সুপার মো. নুরুজ্জামান দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন এবং তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন গণমাধ্যমের সামনে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপন করেছেন। এদিকে তজুমদ্দিন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাঠানো হবে।
