কাশ্মীর নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ বিলাওয়াল ভুট্টোর, কেন্দ্রীয় সরকারের পতনের হুঁশিয়ারি

আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের সাম্প্রতিক নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারের পতন ঘনিয়ে আসার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারি। কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) জোট সরকারে পিপিপি অন্যতম শরিক দল হওয়া সত্ত্বেও বিলাওয়ালের এই কঠোর অবস্থান রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে। তিনি নির্বাচনের ফলাফলকে প্রত্যাখ্যান করে একে ‘রক্তাক্ত’ ও ‘প্রহসনের নির্বাচন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এক ভিডিও বার্তায় বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারি অভিযোগ করেন, এই নির্বাচন কোনোভাবেই অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না, বরং প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে নির্বাচনী ফলাফল পাল্টে দিয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও পিপিপি কর্মীরা ৯টি আসনে জয়লাভ করায় তিনি তাদের অভিনন্দন জানান। মিজফরাবাদ এবং মিরপুরে পিপিপির আসনগুলো ‘চুরি’ করা হয়েছে বলে দাবি করে তিনি এর বিরুদ্ধে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
পিএমএল-এন নেতৃত্বের উদ্দেশে বিলাওয়াল বলেন, বর্তমান সরকারের বিদায়ের ঘণ্টা বেজে গেছে এবং সেই শব্দ তারা শুনতে পাচ্ছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আগামী ৪ আগস্ট মুজফরাবাদে দলের প্রার্থী বাজিল নাকভি ও জাভেদ আইয়ুবের বিজয় নিশ্চিত করতে তিনি কর্মীদের সর্বাত্মক প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া আগামী ১০ আগস্ট পুঞ্চ বিভাগের বাঘ জেলায় এক বিশাল জনসভার ডাক দিয়েছেন তিনি।
এদিকে পাকিস্তানর প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ দাবি করেছেন, আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভার ৪৫টি আসনের মধ্যে ২৩টি জিতে পিএমএল-এন সরকার গঠনের মতো প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। সানাউল্লাহর এই দাবিকে ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক হিসেবে আখ্যা দিয়ে পিপিপির জ্যেষ্ঠ নেতা ও সিন্ধুর মন্ত্রী শারজিল ইনাম মেমন অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় পিএমএল-এন প্রার্থীরা ভোটের দুই দিন আগেই ব্যালট পেপার হস্তগত করেছিলেন।
শারজিল মেমন আরও বলেন, তৎকালীন আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগও প্রশাসন কানে তোলেনি। তিনি একে ‘ঐতিহাসিক কারচুপি’ হিসেবে অভিহিত করে পাকিস্তানর প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ও পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের বিগত দিনের নির্বাচনী জয় নিয়েও তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন। সব মিলিয়ে পিপিপির শীর্ষ নেতৃত্বের এই হুঙ্কার পাকিস্তানর জোট রাজনীতিতে বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
তথ্যসূত্র: দুনিয়া নিউজ
