AdvertisementAdvertisement

জাপানি ইয়েনের রেকর্ড পতন ঠেকাতে ওয়াশিংটন ও টোকিওর যৌথ বাজার হস্তক্ষেপ

জাপানি মুদ্রার নজিরবিহীন পতন ঠেকাতে একযোগে বাজারে বড় ধরনের হস্তক্ষেপে নেমেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান। গত রবিবার এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটিকে দুই দেশের গভীর বন্ধুত্বের প্রতীক এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিকে সচল রাখার যৌথ উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেছেন। জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় ঐতিহাসিক এই যৌথ হস্তক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে বাজার সুরক্ষায় তারা ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের বিপরীতে জাপানি ইয়েনের মান গত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর প্রতি ডলারের বিপরীতে ইয়েনের মান শূন্য দশমিক দুই শতাংশ শক্তিশালী হয়ে ১৫৭.০৭ ইয়েনে দাঁড়ায়, যা গত মাসের ১৬৪ ইয়েনের রেকর্ড পতন থেকে অনেকখানি উত্তরণ। তবে জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত বিবৃতির পর তা পুনরায় ১৫৭.৭০ ইয়েনে উন্নীত হয়।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মুদ্রার ধারাবাহিক অবমূল্যায়ন রোধে লড়াই করছে টোকিও। ইয়েনের রেকর্ড পতনের ফলে দেশটিতে আমদানি ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি তীব্র মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির রাজনৈতিক জনপ্রিয়তায় বড় ধাক্কা দিয়েছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের সাথে জাপানের যৌথ পদক্ষেপকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

২০১১ সালের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের মধ্যে এটিই প্রথম যৌথ বাজার হস্তক্ষেপ। ব্যাংক অব জাপানের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবারের যৌথ অভিযানের আগের দিন অর্থাৎ গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের বাজারে ইয়েন ক্রয়ের জন্য প্রায় ৫৮.৯৭ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে টোকিও। এই বিশাল অঙ্কের তহবিল বাজারে ছেড়ে মুদ্রাটির পতন ঠেকানোর মরিয়া চেষ্টা চালানো হচ্ছে, যা মার্কিন বন্ড বাজারের ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করবে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জাপানের এই সাহসী পদক্ষেপকে জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইয়েনের অবমূল্যায়ন রোধে টোকিওর যেকোনো নীতিগত সিদ্ধান্তকে ওয়াশিংটন স্বাগত জানায় এবং প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আবারও যৌথ হস্তক্ষেপে অংশ নিতে দ্বিধা করবে না। একই সাথে তিনি ব্যাংক অব জাপানের সুদের হার বৃদ্ধির তাগিদ পুনর্ব্যক্ত করেন।

ওয়াশিংটনের এই আহ্বানের সাথে মিল রেখে ব্যাংক অব জাপান সুদের হার বাড়াতে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে, যদিও গত জুনে তারা সুদের হার বাড়িয়ে ৩১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১ শতাংশে উন্নীত করেও বাজারের মন্দাভাব পুরোপুরি কাটাতে পারেনি। এদিকে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহযোগিতার অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার আরেক প্রতিবেশী দেশ দক্ষিণ কোরিয়াও নিজস্ব মুদ্রা ওয়ান ক্রয়ের মাধ্যমে বাজারে সক্রিয় হস্তক্ষেপ করেছে।

0%
0%
0%
0%