অর্থ পাচার প্রতিরোধ পর্যালোচনার কারণেই ট্রাম্পের ৩০০টি ব্যাংক হিসাব বন্ধ করা হয়েছিল দাবি ক্যাপিটাল ওয়ানের

ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের তিন শতাধিক ব্যাংক হিসাব বন্ধের সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও নীতিসম্মত বলে দাবি করেছে মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ওয়ান ফাইন্যান্সিয়াল। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, বরং অর্থ পাচার প্রতিরোধ সংক্রান্ত বিশেষ দলের নিবিড় পর্যালোচনার ভিত্তিতেই ২০২১ সালে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। ট্রাম্পের পারিবারিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের দায়ের করা একটি মামলার জবাবে আদালতে এই তথ্য উপস্থাপন করেছে ক্যাপিটাল ওয়ান।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ট্রাম্পের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার সংক্রান্ত উদ্বেগের কথা এবারই প্রথম কোনো ব্যাংকের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা হলো। ক্যাপিটাল ওয়ান ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের আনা বৈষম্যমূলক ব্যাংকিং সেবা বন্ধ বা ‘ডি-ব্যাংকিং’-এর অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে মামলাটি খারিজের আবেদন জানিয়েছে। ব্যাংকটি স্পষ্ট করেছে, এটি তাদের নিজস্ব নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রক নির্দেশিকার আলোকে দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে গৃহীত একটি আইনি সিদ্ধান্ত।
সূত্রের খবর, ২০২১ সালের মার্চ মাসে ক্যাপিটাল ওয়ান ট্রাম্প-সংশ্লিষ্ট ৩০০টিরও বেশি ব্যাংক হিসাব বন্ধের নোটিশ দেয়। এর প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ফ্লোরিডার একটি ফেডারেল আদালতে মামলা করেন ট্রাম্পের ছেলে এরিক ট্রাম্প ও ট্রাম্প অর্গানাইজেশন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, ক্যাপিটাল ওয়ান রাজনৈতিক বিদ্বেষ থেকে এবং ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হিল দাঙ্গার পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনা করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই কাজ করেছে।
আদালত ইতিমধ্যে ট্রাম্পের করা পূর্ববর্তী দুটি অভিযোগ ত্রুটিপূর্ণ বিবেচনায় খারিজ করলেও পুনরায় সংশোধিত আবেদন পেশের সুযোগ দেয়। গত জুলাই মাসে ট্রাম্প অর্গানাইজেশন যে নতুন সংশোধিত আবেদন জমা দিয়েছে, তা পূর্বের মতোই অসার ও তথ্যবিকৃতিতে ভরা বলে দাবি করেছে ক্যাপিটাল ওয়ান। ব্যাংকটি জানিয়েছে, ট্রাম্পের পক্ষের অভিযোগগুলো মূলত আদালতের নথিপত্রের খণ্ডিত ও খামখেয়ালিপূর্ণ উপস্থাপনা মাত্র।
ক্যাপিটাল ওয়ানের নথিতে বলা হয়েছে, ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের হিসাবগুলোতে এমন কিছু লেনদেনের ধরন শনাক্ত হয়েছে যা ফেডারেল ব্যাংকিং নির্দেশিকা অনুসারে সন্দেহজনক তালিকার অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া এই ব্যাংক হিসাব বাতিলের সিদ্ধান্তের পেছনে যে সমস্ত তথ্য ও বিশ্লেষণ কাজ করেছে, মার্কিন ফেডারেল আইন ও গোপনীয়তার স্বার্থে তা গ্রাহকের কাছে প্রকাশ করার কোনো আইনি সুযোগ ব্যাংকের ছিল না।
দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ এনে চাপ সৃষ্টি করে আসছে। ট্রাম্প ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে বৈষম্যমূলক উপায়ে গ্রাহকের হিসাব বন্ধ রোধে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন এবং একই বছরের জানুয়ারিতে জেপিমরগান চেজের বিরুদ্ধেও সমরূপ মামলা দায়ের করেন। এর আগে ২০১৯ সালেও ট্রাম্প তাঁর আর্থিক বিবরণী মার্কিন কংগ্রেসে প্রকাশ ঠেকানোর জন্য ক্যাপিটাল ওয়ান ও ডয়চে ব্যাংকের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নেমেছিলেন।
