AdvertisementAdvertisement

শুভেন্দু অধিকারীকে লক্ষ্যবস্তু করার ষড়যন্ত্রে উদ্বিগ্ন পার্থ চট্টোপাধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিচালিত একটি ভয়াবহ জঙ্গি ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়েছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। শনিবার এসটিএফের আইজি গৌরব শর্মা এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের সাথে সম্পৃক্ত হামিম মণ্ডলকে গ্রেফতারের পর সীমান্তপারের এই নাশকতার নীলনকশা উন্মোচিত হয়েছে। হাওড়ার পিলখানার বাসিন্দা হামিম গত কয়েক মাস ধরে পূর্ব বর্ধমানে অবস্থান করে পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের নির্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করছিল।

এই ঘটনাকে নিছক কোনো অপরাধ হিসেবে না দেখে এটিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পাকিস্তানি হ্যান্ডলার ‘রানা’, ‘উজায়ের’, ‘আবিদ জাট ৩৩৩’ এবং ‘হামাদ’-এর মতো ব্যক্তিদের সাথে হামিমের সরাসরি এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তিনি দাবি করেন, জইশ-ই-মহম্মদের এই নেটওয়ার্ক শুধুমাত্র রাজনৈতিক নেতৃত্বের নিরাপত্তা নয়, বরং ডিজিটাল র‍্যাডিক্যালাইজেশন এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক নতুন ও ভয়ঙ্কর চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

পার্থ চট্টোপাধ্যায় জোর দিয়ে বলেন, মৌলবাদী শক্তির কাছে কোনোভাবেই মাথা নত করা চলবে না এবং মুখ্যমন্ত্রীর সুরক্ষার খাতিরে সরকারকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করতে হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ পালাবদল এবং জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এক সময়ের প্রভাবশালী এই নেতার এমন মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

তদন্তে জানা গেছে, ধৃত হামিম সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্য, যারা মূলত টাকার বিনিময়ে খুন, তোলাবাজি ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত। কাশ্মীরে সক্রিয় এই জঙ্গি সংগঠনের শিকড় এখন পশ্চিমবঙ্গের মাটিতেও ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে বর্ধমানে অবস্থানরত এই জঙ্গির আসল উদ্দেশ্য কী ছিল এবং এর পেছনে আরও বড় কোনো চক্রান্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার বিষয়টি এখন রাজ্য প্রশাসনের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%