AdvertisementAdvertisement

নিট বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারে রাজ্যগুলোকে স্বাধীনতা সুপ্রিম কোর্টের

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে গড়ে ওঠা ছাত্র বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে দায়ের করা এফআইআর নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার বা বাতিল করার বিষয়ে দিল্লি এবং অন্যান্য রাজ্য সরকারগুলো আইন অনুযায়ী স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনোভাবেই নতুন করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কেন্দ্র, সরকার তাতে অনড় রয়েছে বলে আদালতকে আশ্বস্ত করেছেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।

শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ মন্তব্য করে যে, তদন্তের স্বার্থে প্রকৃত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা এবং গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তদের বিষয়টিকে পৃথকভাবে বিবেচনা করা আবশ্যক। আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ফৌজদারি অপরাধের ইতিহাস বলতে খুন বা গুরুতর অপরাধের মতো ঘটনাকে বোঝাবে, নিছক কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বা ছোটখাটো বিক্ষোভকে এর আওতায় ফেলা যাবে না। এছাড়া বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শীর্ষ আদালত। অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের কোনোভাবেই সুরক্ষা দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে আদালত জানিয়েছে, এই ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল বা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে কোনো কমিটি গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী বৃন্দা গ্রোভার প্রশ্ন তোলেন যে, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, অসম, উত্তরপ্রদেশ ও দিল্লির মতো রাজ্যগুলোতে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো কীভাবে প্রত্যাহার করা হবে। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এর উত্তরে জানান, সরকারের তরফ থেকে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা যোগাযোগের ঘাটতি থাকতে পারে, তবে শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সরকার সম্পূর্ণ আন্তরিক। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই মামলাগুলো নিরসনের সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।

শুনানিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর নজরদারির জন্য ফেসিয়াল রিকগনিশন বা মুখের ছবি শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টিও উঠে আসে। আবেদনকারীদের অভিযোগ, সম্মতি ছাড়াই ব্যক্তিগত তথ্যের এমন সংগ্রহ গোপনীয়তার অধিকার ক্ষুণ্ন করছে। সলিসিটর জেনারেল জানান, মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের অংশ হিসেবে মোট ২,৭৩৮ জনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। শীর্ষ আদালত পুনরায় জোর দিয়ে বলেছে যে, প্রকৃত শিক্ষার্থীদের হয়রানি করা চলবে না, তবে গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত কেউ কেবল আন্দোলনের দোহাই দিয়ে আইনি সুরক্ষা পেতে পারেন না। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৮ অগস্ট অনুষ্ঠিত হবে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%