কনস্টেবল পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েই ১২ বার বাজিমাত, অদম্য জেদে আইপিএস প্রেম সুখ দেলু

জীবনের প্রথম প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ব্যর্থতা যে সাফল্যের পথে অন্তরায় নয়, বরং অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে, তার জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রাজস্থানের বিকানেরের বাসিন্দা প্রেম সুখ দেলু। পুলিশের কনস্টেবল পদে নিয়োগ পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েও হতোদ্যম হননি তিনি; বরং অদম্য জেদ ও সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টায় ছয় বছরের ব্যবধানে ১২টি সরকারি পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন। পরিশেষে ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা ইউপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি এখন একজন সুদক্ষ আইপিএস অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিকানেরের একটি প্রান্তিক ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া প্রেমের শৈশব কেটেছে চরম দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে। অভাবের কষাঘাত সত্ত্বেও শিক্ষার আলো থেকে তিনি নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখেননি। স্থানীয় বিদ্যালয় থেকে সাফল্যের সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শেষ করার পর রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। মেধার স্বাক্ষর রেখে স্নাতকোত্তরে প্রথম স্থান অর্জন করে তিনি স্বর্ণপদকও লাভ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরোনোর পর পরিবারের আর্থিক দুর্দশা মোচনের তাগিদে তিনি সরকারি চাকরির পরীক্ষায় মনোনিবেশ করেন। রাজস্থান পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথমবার ব্যর্থ হলেও তিনি দমে যাননি। এই ব্যর্থতাকে শিক্ষা হিসেবে গ্রহণ করে দ্বিগুণ উৎসাহে প্রস্তুতি শুরু করেন। যার ফলস্বরূপ ২০১০ সালে রাজস্থান সরকারের পাটওয়ারি পদে নিয়োগ পাওয়ার মাধ্যমে তার সাফল্যের জয়যাত্রা শুরু হয়। এরপর গ্রাম সেবক, সহকারী জেলার, রাজস্থান পুলিশ সাব-ইনস্পেক্টর এবং কলেজ লেকচারারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে একের পর এক নিয়োগপত্র আসে তার ঝুলিতে।
কর্মব্যস্ত জীবনের ফাঁকেও ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার স্বপ্নকে তিনি লালন করেছেন। তহসিলদার পদে কর্মরত থাকা অবস্থায় কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার সঙ্গে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণ করেন তিনি। ২০১৫ সালের পরীক্ষায় চূড়ান্ত সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে তিনি ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিস বা আইপিএস ক্যাডারে নির্বাচিত হন। বর্তমানে গুজরাট ক্যাডারের আইপিএস অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এই অদম্য মেধাবী।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
