দলের নাম ভাঙিয়ে দাদাগিরি বরদাস্ত নয়, কড়া বার্তা বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারির

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের প্রেক্ষাপটে বিজেপির সাংগঠনিক শৃঙ্খলার প্রশ্নে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে দলীয় নেতৃত্ব। দলের নাম ভাঙিয়ে তোলাবাজি, প্রভাব খাটানো কিংবা সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতির পরিবেশ তৈরির রাজনীতির বিরুদ্ধে এবার সরাসরি সরব হলেন পাণ্ডবেশ্বরের বিজেপি বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি। এক প্রকাশ্য জনসভা থেকে তিনি দলীয় কর্মীদের সতর্ক করে সাফ জানিয়ে দিলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের আমলের সেই তথাকথিত দাদাগিরির সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি বিজেপির পতাকাতলে কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
পাণ্ডবেশ্বরে আয়োজিত দলীয় সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জিতেন্দ্র তিওয়ারি স্পষ্ট করেন, বিধায়কের নাম বা পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় ব্যক্তিগত আধিপত্য বিস্তারের মানসিকতা যারা পোষণ করেন, বিজেপিতে তাদের কোনো স্থান নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ছবি তুলে বা নেতাদের সঙ্গে ঘোরাফেরা করে প্রভাব খাটালে দীর্ঘমেয়াদে কোনো সুফল পাওয়া যায় না। রাজনীতি করতে হলে ক্ষমতার দাপট নয়, বরং মানুষের দ্বারে গিয়ে তাদের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জনের ওপরই গুরুত্ব দিতে হবে।
বিজেপির সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ফেরানোর এই প্রচেষ্টা কেবল জিতেন্দ্র তিওয়ারির ব্যক্তিগত মত নয়, বরং এটি রাজ্য বিজেপির সামগ্রিক কৌশলেরই অংশ। এর আগে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণকারী যেকোনো আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছিলেন। বিধায়কের মতে, ভয় দেখিয়ে সাময়িক সুবিধা পাওয়া গেলেও মানুষের হৃদয়ে স্থান পাওয়া অসম্ভব। তাই স্বচ্ছ আচরণ এবং জনসংযোগই দলের শক্তি বৃদ্ধির একমাত্র পথ।
উল্লেখ্য যে, গত কয়েক মাসে বিজেপির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ওঠার পর দল নড়েচড়ে বসেছে। ইতিমধ্যে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে আড়াইশোরও বেশি কর্মীকে শোকজ করা হয়েছে এবং ২২ জনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার মতো কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য নেতৃত্ব। জগদ্দলের বিজেপি বিধায়ক রাজেশ কুমারের পর জিতেন্দ্র তিওয়ারির এই অবস্থান দলের অন্দরে শুদ্ধি অভিযানের বার্তাকে আরও জোরালো করল।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সংগঠনের ভিত মজবুত করতে এবং সাধারণ মানুষের বিশ্বাস পুনর্গঠনে বিজেপির এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি তাৎপর্যপূর্ণ। জিতেন্দ্র তিওয়ারি আবারও স্মরণ করিয়ে দিলেন যে, একজন রাজনৈতিক কর্মীর আসল পরিচয় ক্ষমতার দাপটে নয়, বরং জনসেবা ও সম্মানের সম্পর্কের মধ্যেই নিহিত থাকে। শৃঙ্খলার প্রশ্নে আপসহীন থাকার এই বার্তা আগামী দিনে দলের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
