টরোন্টোয় মার্কিন কনস্যুলেটে গুলিবর্ষণ, অর্থের বিনিময়ে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে দুই কিশোর আটক

টরন্টোতে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটে গুলিবর্ষণের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তারের পর চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে কানাডীয় পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ১৯ বছর বয়সী জেন-উল-আবেদিন সৈয়দ এবং ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে ভাড়াটে খুনি হিসেবে তাদের এই নাশকতামূলক কাজে নিয়োগ করা হয়েছিল।
গত জুলাই মাসে কনস্যুলেটে চালানো এই হামলা ছিল গত পাঁচ মাসের মধ্যে দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগে ১০ মার্চ ভোরেও কূটনৈতিক এই স্থাপনা লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয়েছিল, যে ঘটনায় জুন মাসে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভাগ্যক্রমে কোনো ঘটনাতেই কেউ হতাহত না হলেও, কানাডীয় পুলিশ এই আক্রমণগুলোকে জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে।
পুলিশ প্রধান মাইরন ডেমকিউ জানিয়েছেন, হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে এবং এর মূল উদ্দেশ্য কী, তা উদ্ঘাটনই তদন্তের প্রধান লক্ষ্য। তদন্তকারীদের মতে, বর্তমানে বিভিন্ন সহিংস অপরাধ, যেমন গুলিবর্ষণ, অগ্নিসংযোগ এবং হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাগুলো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অর্থের বিনিময়ে ঘটানো হচ্ছে। অপরাধীদের টার্গেট তালিকায় সিনাগগ, ইহুদি স্কুল এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের মতো স্থাপনাও রয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা জো ম্যাথিউস জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন স্থাপনায় গুলি চালিয়ে তার ভিডিও ধারণ করতে বলা হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রেই নিয়োগকর্তারা প্রতিশ্রুত অর্থ পরিশোধ করে না বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। কনস্যুলেটে হামলার তিন দিন আগে টরন্টোর উপকণ্ঠে একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনার সঙ্গেও এই দুই সন্দেহভাজন জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ২৭ জুলাই ভোর ৪টা ৪৬ মিনিটে একটি সাদা হোন্ডা অ্যাকর্ড গাড়ি থেকে কনস্যুলেট লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। সে সময় ঘটনাস্থলের কাছেই পুলিশের টহল গাড়ি থাকা সত্ত্বেও দুর্বৃত্তরা দ্রুত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। বর্তমানে কানাডার রয়্যাল মাউন্টেড পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে এবং এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মার্কিন ও ইসরায়েলি কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
