AdvertisementAdvertisement

স্যার ক্রিক সীমান্তে পাকিস্তানের নতুন সামরিক তৎপরতা ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ায় কৌশলগত উদ্বেগের আশঙ্কা

গুজরাট সংলগ্ন স্যার ক্রিক সীমান্তে পাকিস্তানের নতুন সামরিক তৎপরতাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ও জল্পনা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘অপারেশন আবাবিল: দ্য ডিভাইন স্ট্রাইক’ নামক একটি বিশেষ সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে পাকিস্তান। এই অভিযানে চীন ও তুরস্কের সক্রিয় সহায়তা রয়েছে বলে দাবি করা হলেও, সংশ্লিষ্ট কোনো দেশের পক্ষ থেকেই এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ভারত সরকারও এখন পর্যন্ত এহেন দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের অতি সংবেদনশীল এবং বিতর্কিত জলাভূমি অঞ্চল স্যার ক্রিকে পাকিস্তান নৌসেনা তাদের স্পেশ্যাল সার্ভিস গ্রুপ বা এসএসজি-এন কমান্ডোদের মোতায়েন করেছে। স্থল, জল ও আকাশ— এই তিন ক্ষেত্রেই দ্রুত অভিযান পরিচালনায় বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত এই বাহিনীকে কৌশলগত অবস্থানে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি তুরস্কের তৈরি অত্যাধুনিক সশস্ত্র ড্রোন ব্যবহার করে ওই এলাকায় নজরদারি এবং প্রয়োজনবোধে হামলা চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

স্যার ক্রিক অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থা অত্যন্ত প্রতিকূল ও কর্দমাক্ত হওয়ায় সাধারণ নৌযান চলাচল সেখানে প্রায় অসম্ভব। এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে চীন পাকিস্তানকে বিশেষ ধরনের হোভারক্রাফ্ট এবং মেরিন অ্যাসল্ট ক্রাফ্ট সরবরাহ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জলযানগুলো সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানের দ্রুত টহল এবং সেনা স্থানান্তরের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

শুধু সীমান্তেই নয়, সামগ্রিকভাবে পাকিস্তানের নৌ-শক্তি বৃদ্ধিতে চীন ও তুরস্কের ভূমিকা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সম্প্রতি চীন পাকিস্তানকে হ্যাংগর-শ্রেণির স্টেলথ সাবমেরিন এবং তুঘরাইল-শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ হস্তান্তর করেছে। সামরিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এই নতুন যুদ্ধসামগ্রীগুলো পাকিস্তানের নৌ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও কার্যকর করে তুলতে পারে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ইসলামাবাদের এমন তৎপরতার মূল লক্ষ্য আরব সাগর, লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর এবং ভারত মহাসাগরে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করা বলে মনে করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে স্যার ক্রিক এবং ‘হারামি নালা’ সংলগ্ন এলাকায় নতুন মেরিন সিকিউরিটি পোস্ট তৈরি করা হয়েছে। উপকূলে সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করতে মোতায়েন করা হয়েছে একাধিক প্রতিরক্ষা নৌযান এবং গশ্‌তি নৌকা।

দীর্ঘদিন ধরেই স্যার ক্রিক ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্কের এক অত্যন্ত স্পর্শকাতর ভূখণ্ড। ফলে সেখানে যেকোনো ধরনের সামরিক তৎপরতা দুই দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সরাসরি প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা রাখে। তবে ভারতীয় নৌসেনা ও উপকূলরক্ষী বাহিনী দীর্ঘদিন ধরেই এই অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে আসছে।

উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরবর্তী সময়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। সেই ঘটনার পর থেকে পশ্চিম সীমান্ত এবং আরব সাগরে ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত জোরদার করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্যার ক্রিকে পাকিস্তানের এই সামরিক তৎপরতার দাবি সামনে আসায় কৌশলগত নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা পরিস্থিতির দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন। তবে এসব দাবির সত্যতা সরকারিভাবে নিশ্চিত না হওয়ায় প্রকৃত পরিস্থিতির মূল্যায়নের জন্য আরও তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%