যুদ্ধবিরতি আলোচনার মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলা আহত ৮

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় টায়ার জেলায় ইসরায়েলি বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। মার্কিন মধ্যস্থতায় রোমে বৈরুত ও তেল আবিবের মধ্যে চলমান সপ্তম দফার যুদ্ধবিরতি আলোচনার শেষ দিনে এমন সামরিক উত্তজনা নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বুরজ আল-শামালি শহরে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আটজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া আল-মানসুরি ও মাজদাল জৌন শহরের মধ্যবর্তী এলাকায় একাধিক বিমান হামলায় সাধারণ মানুষের বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে।
জাতিসংঘের লেবানন বিষয়ক অন্তর্বর্তী বাহিনী বা ইউনিফিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে ১১৩টি প্রজেক্টাইল নিক্ষেপ করেছে, যা গত ২১ জুনের পর থেকে সর্বোচ্চ। গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে লেবাননে নিহতের সংখ্যা ৪ হাজার ৩৩৩ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১২ হাজারের বেশি মানুষ। এর আগে বুধবার মাজদাল জৌনে তল্লাশি অভিযান চালানোর সময় এক বিস্ফোরণে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত ও চারজন আহত হয়। দুই মাস আগে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এটিই ছিল ইসরায়েলি বাহিনীর প্রথম বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা।
এদিকে ইতালির রাজধানী রোমে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী আলোচনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট দাবি করেছেন, প্রযুক্তিগত পর্যায়ে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। তার ভাষ্যমতে, উভয় দেশ পাইলট জোন বা মডেল এলাকা নির্ধারণের বিষয়ে সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে লেবাননের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আনাদোলু নিউজ এজেন্সিকে জানিয়েছেন, ইসরায়েলি প্রতিনিধিদল এলাকাগুলোর ভৌগোলিক পরিস্থিতির তথ্য চাইলেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
বৈঠকে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ এবং লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু লেবাননের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও ইসরায়েলের কাছ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, চলমান সামরিক সংঘাতের মাঝে রোমের এই আলোচনার মাধ্যমে ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
এছাড়া সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউনেস্কোর তালিকাভুক্ত ঐতিহ্যবাহী স্থান বিউফোর্ট ক্যাসেলের আশেপাশেও ইসরায়েলি বাহিনী একাধিক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এলাকাটিতে হিজবুল্লাহর সুড়ঙ্গ ধ্বংসের দাবি করলেও এর স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। লেবাননের আল-মানসুরি এলাকায় রাস্তা সচল করার সরকারি উদ্যোগও ইসরায়েলি বাহিনীর ‘নিষেধাজ্ঞা অঞ্চল’ ঘোষণার কারণে ব্যাহত হয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
