গাজায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানাল আট মুসলিম দেশ

গাজার হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন আরব ও মুসলিম বিশ্বের আট দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা সতর্ক করে বলেছেন, চিকিৎসাসেবা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর এই পরিকল্পিত আক্রমণ আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি আরব এবং মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অবিলম্বে এসব হামলা বন্ধ এবং গাজায় নিরবচ্ছিন্ন মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এখন সম্পূর্ণ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। অঞ্চলটির ৩৬টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র অর্ধেক আংশিক সচল রয়েছে। গত ১ আগস্ট দেইর আল-বালাহ এলাকায় অবস্থিত আল-আকসা শহীদ হাসপাতালে একটি ওষুধের গুদামে ইসরায়েলি বিমান হামলার ঘটনা ঘটে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ক্যানসার ও রক্তস্বল্পতাজনিত রোগের ওষুধের ঘাটতি ৬১ শতাংশে পৌঁছেছে, যার ফলে হাজারো রোগী মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছে। ইউনিসেফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তথাকথিত যুদ্ধবিরতি চলাকালীন গত ৩০০ দিনে গাজায় অন্তত ৩০০ শিশু প্রাণ হারিয়েছে।
ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস এই বিবৃতিকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, এটি ইসরায়েলি আগ্রাসনের ভয়াবহতা এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতি তাদের অবমাননার প্রতিফলন। গোষ্ঠীটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, মধ্যস্থতাকারী দেশ এবং মার্কিন প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন অক্টোবর মাসে স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তির শর্তাবলী রক্ষায় ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়। হামাস দাবি করেছে, তারা দায়িত্বশীলভাবে শান্তি প্রস্তাবের রোডম্যাপ মেনে চললেও ইসরায়েল নিয়মিত তা লঙ্ঘন করে আসছে।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের হিসাব অনুযায়ী, গত ৩০০ দিনে ইসরায়েলি বাহিনী ৪ হাজার ৯১ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এই সময়ে অন্তত ১ হাজার ২৫৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪ হাজার ১২১ জন আহত হয়েছেন। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, প্রত্যাশিত ত্রাণবাহী ট্রাকের মাত্র ৩৫ শতাংশ গাজায় প্রবেশ করতে পেরেছে এবং রাফাহ সীমান্ত দিয়ে মাত্র ১০ হাজার ৭০৩ জনকে বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইসরায়েলি বাহিনী ১৫৯ জন ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গাজার পরিস্থিতির সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও জেরুজালেমের বর্তমান অস্থিরতার যোগসূত্র টেনেছেন। তারা একে ফিলিস্তিনিদের বৈধ অধিকার খর্ব করার এবং দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের ভিত্তি ধ্বংস করার একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বলপ্রয়োগের মাধ্যমে একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার এই নীতি জাতিসংঘ প্রস্তাবসহ আন্তর্জাতিক আইনের নজিরবিহীন লঙ্ঘন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
