AdvertisementAdvertisement

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কৌশলগত ব্যর্থতায় চাপের মুখে নেতানিয়াহু

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইসরায়েলের কৌশলগত ব্যর্থতা এবং এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে সৃষ্ট ভয়াবহ সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই যুদ্ধ কোনো লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয়নি, বরং পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সার ও রাসায়নিক পণ্যের সরবরাহে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজ দেশে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে যুদ্ধের পরিধি আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা তার রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

পশ্চিম জেরুজালেমে এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কমান্ডার আহমেদ ভাহিদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন। যদিও ইরানের পক্ষ থেকে এমন কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবুও নেতানিয়াহু এই ইস্যুটিকে অস্তিত্ব রক্ষার সংকট হিসেবে সামনে এনেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, প্রয়োজনে মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে হলেও তিনি এককভাবে ইরানবিরোধী অভিযানে অটল থাকবেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য নেতানিয়াহুর এমন অবস্থানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে দেখছেন। ট্রাম্পের মতে, নেতানিয়াহু চাচ্ছেন যেন ওয়াশিংটন এই যুদ্ধে জড়িয়ে থাকে। ইরানের নাতাঞ্জ পরমাণু কেন্দ্রের কাছে ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ স্থাপনায় ইউরেনিয়াম মজুতের গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে নেতানিয়াহুর অতি-উৎসাহের সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেছেন, নেতানিয়াহু চান তিনি যেন এই যুদ্ধে সম্পৃক্ত থাকেন, কিন্তু এমন সংবেদনশীল বিষয় এভাবে বিশ্বজুড়ে প্রচার করার প্রয়োজন নেই।

লন্ডনের কিংস কলেজের ওয়ার স্টাডিজ বিভাগের জ্যেষ্ঠ গবেষক আহরন ব্রেগম্যান এই সংঘাতকে ‘কৌশলগত বিপর্যয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তার মতে, যুদ্ধের শুরু থেকে ইসরায়েল যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল তা পূরণ হয়নি এবং ট্রাম্প নিজেও এখন যেকোনো মূল্যে এই সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন। এদিকে ইসরায়েলের মিসগাভ ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটির গবেষক কোবি মাইকেল মনে করেন, ইরান পরমাণু সক্ষমতা অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, যা ইসরায়েলের নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য বড় হুমকি।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কে বর্তমানে এক অস্বাভাবিক টানাপোড়েন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাবেক মার্কিন কূটনীতিক অ্যারন ডেভিড মিলারের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার সামরিক সহযোগিতা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের পর থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকলেও, কূটনৈতিক পর্যায়ে সম্পর্ক এমন তলানিতে আগে কখনো পৌঁছায়নি। সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হামাসের সঙ্গে ট্রাম্পের সরাসরি আলোচনার মতো বিষয়গুলো ইসরায়েলের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশের মতে, নেতানিয়াহুর যুদ্ধের হুঙ্কার মূলত তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ভাগ্য রক্ষার মরিয়া প্রচেষ্টা। দেশে চলমান দুর্নীতির বিচার এবং আসন্ন নির্বাচনের চাপে থাকা নেতানিয়াহু পারমাণবিক ইস্যুকে ব্যবহার করে জনগণের নজর ঘোরাতে চাইছেন। তবে ইসরায়েলের এই একতরফা যুদ্ধের সম্ভাবনাকে অসম্ভব বলে মনে করছেন অনেক আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক, কারণ এটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান কূটনৈতিক শান্তি প্রচেষ্টাকে চিরতরে নস্যাৎ করে দিতে পারে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%