শতবর্ষ পেরিয়ে শিক্ষার আলোকবর্তিকা ছড়াচ্ছে সীতাকুণ্ড কামিল মাদরাসা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ব্রিটিশ শাসনামলে মাওলানা মোহাম্মদ ওবায়দুল হক (র.) কর্তৃক প্রজ্বলিত শিক্ষার সেই প্রদীপ শতবর্ষ পেরিয়ে আজও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করছে। তাঁর হাতে প্রতিষ্ঠিত সীতাকুণ্ড কামিল এম.এ. মাদরাসা কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি অঞ্চলটিতে শিক্ষা জাগরণ, নৈতিক মূল্যবোধ চর্চা এবং একটি মানবিক সমাজ গঠনের এক অবিস্মরণীয় ঐতিহাসিক স্মারক।
এক সময় বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলে শিক্ষার সুযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত, যেখানে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষার প্রসার ঘটানো ছিল এক বড় চ্যালেঞ্জ। সেই প্রতিকূল বাস্তবতায় শিক্ষা বিস্তারকেই সমাজ পরিবর্তনের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেন অকুতোভয় এই শিক্ষানুরাগী। ১৮৫৬ সালে উপজেলার বাড়বকুণ্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী মাওলানা মোহাম্মদ ওবায়দুল হক (র.) তাঁর দূরদর্শী চিন্তাধারা থেকে ১৮৮৬ সালে এই মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন।
শিক্ষা, শৃঙ্খলা এবং মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গৌরবময় সম্মান অর্জন করে। সেই অর্জনের অংশ হিসেবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত থেকে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিরা সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ গ্রহণ করেছিলেন। সুদীর্ঘ সময় ধরে ঐতিহ্যের ধারক হয়ে থাকা এই বিদ্যাপীঠ এখনো অগণিত শিক্ষার্থীর স্বপ্নের ঠিকানায় পরিণত হয়ে আছে।
