AdvertisementAdvertisement

নিশ্বাসের লড়াই নিয়ে চরকিতে মুক্তি পেল চলচ্চিত্র পেইন্ট অন ড্রাই লিফ

এক চিমটি বাতাসের জন্য হাহাকার, পিতাকে হারানোর দগদগে ক্ষত আর ধোঁয়াশাচ্ছন্ন ভবিষ্যতের এক রূপক আখ্যান নিয়ে পর্দায় হাজির হয়েছে নতুন স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘পেইন্ট অন ড্রাই লিফ’। করোনাকালীন বিষাদময় অভিজ্ঞতার ছায়ায় নির্মিত এই সিনেমাটি গত বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পেয়েছে। ফুয়াদুজ্জামান ফুয়াদের পরিচালনায় এই কাজটি কেবল একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং বেঁচে থাকার এক তীব্র আকুতি।

সিনেমাটির প্রযোজক মাহফুজ নাজিমের ব্যক্তিগত শোক থেকেই জন্ম হয়েছে এই নির্মাণের। হাসপাতালের করিডরে দাঁড়িয়ে বাবার নিথর হয়ে যাওয়ার মুহূর্তটি তাকে এখনো তাড়িয়ে বেড়ায়। তিনি জানান, একজন মানুষ যখন সামান্য একটু বাতাসের জন্য লড়েন, সেই দৃশ্য যতটা ভয়ংকর, ততটাই হৃদয়বিদারক। এটি মূলত সেইসব মানুষদের গল্প, যারা বুকভরে শ্বাস নেওয়ার অধিকারটুকুও প্রতিনিয়ত হারিয়ে ফেলছেন। নিজের বাবার প্রতি ঋণ শোধের এই চেষ্টাকে মাহফুজ নাজিম দেখছেন জীবনের এক বড় পাওয়া হিসেবে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

নির্মাতা ফুয়াদুজ্জামান ফুয়াদ এই সিনেমাটিকে কেবল একজন ব্যক্তির গল্প হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং একে দেখছেন পুরো পৃথিবীর ভবিষ্যৎ দর্পণ হিসেবে। ঢাকার বাতাসের মান নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি কোনো কল্পবিজ্ঞান নয়, বরং আমাদের বর্তমানের এক সামান্য বর্ধিত রূপ। নির্মাণের ক্ষেত্রে তিনি সংলাপের চেয়ে শব্দের অনুরণন, কুয়াশাচ্ছন্ন দৃশ্যপট এবং স্থির ফ্রেমের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তার লক্ষ্য ছিল দর্শক যেন ছবি শেষে নিজের নিশ্বাসের শব্দটুকু শুনতে পান।

সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র তন্বী ও তূর্যকে ফুটিয়ে তুলেছেন কাজী নওশাবা আহমেদ এবং ইমতিয়াজ বর্ষণ। নওশাবার কাছে এই কাজ অভিনয়ের বাইরেও এক পরম উপলব্ধির নাম। তার ভাষ্যমতে, ‘পেইন্ট অন ড্রাই লিফ’ প্রকৃতির দেওয়া এক উপহার। অন্যদিকে বর্ষণ মনে করেন, উন্নয়নের নামে আমরা যে হারে সবুজ নিধন করছি, তাতে ভবিষ্যতে অক্সিজেনের সংকটে পড়াটা সময়ের ব্যাপার মাত্র। সেই শঙ্কার কাব্যিক রূপায়ণই ফুটে উঠেছে তার অভিনয়ে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

গল্পের গভীরে প্রবেশ করলে দেখা যায়, এখানে গাছ কেবল পরিবেশের উপাদান নয়, বরং মানুষের অস্তিত্বের আয়না। তন্বী আর তূর্যের সম্পর্কের রসায়নে পরিচালক দেখিয়েছেন ভালোবাসা কীভাবে যত্ন থেকে জেদে রূপ নেয়। ধরে রাখা আর ছেড়ে দেওয়ার মাঝখানের সেই ধূসর রেখায় দাঁড়িয়ে থাকা সিনেমাটি দর্শককে তাদের যাপিত জীবনের নিশ্বাস নেওয়ার অধিকার নিয়ে নতুন করে ভাবাবে, এমনটাই প্রত্যাশা কলাকুশলীদের।

0%
0%
0%
0%