আইনি জটিলতায় আটকে থাকা মামলা ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট এক যুগান্তকারী রায়ে স্পষ্ট করেছে যে, আইনজীবীদের ধর্মঘট, সরকারি ছুটি, বিচারকের ছুটি কিংবা আদালতের বদলির মতো নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কোনো পরিস্থিতির কারণে সিভিল প্রসিডিউর কোডের ১৭তম আদেশের ৩ নম্বর বিধির অধীনে কোনো পক্ষের সাক্ষ্য প্রদানের অধিকার বাতিল করা যাবে না। বিচারপতি শহীদ বিলাল হাসান ও বিচারপতি নাঈম আখতার আফগানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ১২ কাঠা জমির মালিকানা সংক্রান্ত দীর্ঘ ১৭ বছরের পুরোনো একটি বিরোধ নিষ্পত্তিকালে এই পর্যবেক্ষণ দেন। আদালত লাহোর হাইকোর্টের বাহাওয়ালপুর বেঞ্চসহ নিম্ন আদালতের পূর্বের সব রায় বাতিল করে মামলাটি নতুন করে শুনানির নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৯ সালের ১৪ অক্টোবর নিম্ন আদালত বাদীর সাক্ষ্য দেওয়ার অধিকার খর্ব করে মামলাটি খারিজ করে দিয়েছিল। অথচ আদালতের নথিতে দেখা গেছে, পূর্ববর্তী শুনানির দিন আইনজীবীদের ধর্মঘটের কারণে আদালত কার্যক্রম স্থগিত ছিল, যা বাদীর কোনো অবহেলার ফসল ছিল না। সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে, যেহেতু সিভিল প্রসিডিউর কোডের উক্ত বিধানটি শাস্তিমূলক, তাই আইন নির্ধারিত সব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এটি প্রয়োগ করা সংগত নয়।
বিচারপতিদের বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছেন যে, মামলাটি নিম্ন আদালতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং বাদীকে সাক্ষ্য উপস্থাপনের পূর্ণ সুযোগ দিতে হবে। এরপর প্রতিপক্ষকেও তাদের সাক্ষ্য উপস্থাপনের সুযোগ দিয়ে আইন অনুযায়ী নতুন করে রায় ঘোষণা করতে হবে। আদালত সতর্ক করে বলেছে, ১৭ বছরের পুরোনো এই মামলাটি প্রয়োজনে প্রতিদিন শুনানির মাধ্যমে আগামী ৬ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।
রায় প্রদানের সময় পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালত বিচারিক প্রক্রিয়ায় অহেতুক সময়ক্ষেপণ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে। আদালত আইনজীবীদের পরামর্শ দিয়েছে যে, তাদের সক্ষমতার বাইরে মামলা গ্রহণ করা উচিত নয় এবং অন্য আদালতে ব্যস্ততার অজুহাতে বারবার শুনানির সময় পরিবর্তন করা কাম্য নয়। নিম্ন আদালতের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন ‘শেষ সুযোগ’ বা ‘চূড়ান্ত সুযোগ’র মতো শব্দ বারবার ব্যবহার করে বিচারিক আদেশের গুরুত্ব খর্ব করা না হয়।
বিচার ব্যবস্থা সংস্কার ও মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আদালত কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করেছে। অনিবার্য কারণে শুনানির সময় পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে তা লিখিতভাবে নথিবদ্ধ করতে হবে এবং বিলম্ব এড়াতে জরিমানার মতো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের অনুলিপি সব হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি, প্রাদেশিক বার কাউন্সিল এবং ইসলামাবাদ বার কাউন্সিলে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে বিচারক ও আইনজীবীরা নতুন নির্ধারিত নীতিমালার আলোকে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন।
তথ্যসূত্র: দুনিয়া নিউজ
