স্পেনের সেউতায় নজিরবিহীন অভিবাসী ঢল শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ইউরোপীয় সীমান্তে গভীর সংকটের বার্তা

মরক্কো থেকে স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সিউতায় নজিরবিহীন অভিবাসী অনুপ্রবেশের ঘটনায় অন্তত ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারের প্রধান হুয়ান জেসুস ভিভাস। গত সপ্তাহে কয়েক হাজার মানুষের এই আকস্মিক পদযাত্রার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নাগরিক স্বাধীনতা, বিচার ও স্বরাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির শুনানিতে ভিভাস জানান, এখনো ৩ থেকে ৫ হাজার অভিবাসী শহরটিতে অবস্থান করছেন, যা ওই অঞ্চলের স্বাভাবিক জনজীবনকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
স্পেনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার প্রায় ৭২ হাজার মানুষ সাঁতরে অথবা পায়ে হেঁটে মরক্কো থেকে সিউতায় প্রবেশ করেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো সীমান্তে এটিই সবচেয়ে বড় অনুপ্রবেশের ঘটনা। ভিভাস এই ঘটনাকে একটি ‘আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করে জানান, শহরে অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যা স্থানীয় প্রায় ৮০ হাজার জনসংখ্যার প্রায় সমান। দুটি অভ্যর্থনা কেন্দ্র ইতিমধ্যে ভেঙে পড়ায় অভিবাসীদের প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণ করাও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার একই শুনানিতে অংশ নিয়ে জানান, স্পেন ব্রাসেলসকে আশ্বস্ত করেছে যে এই সংকট শেনজেনভুক্ত দেশগুলোর পাসপোর্টবিহীন অবাধ যাতায়াত ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করবে না। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সিউতার এই ঘটনা ইউরোপের সীমান্ত নিরাপত্তার গভীর দুর্বলতাকে উন্মোচিত করেছে। তার মতে, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ যখন পার্শ্ববর্তী একটি দেশের সদিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল থাকে, তখন ইউরোপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকে।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের অভিযোগ, অনুপ্রবেশের এই ঢল নামার আগে মাদ্রিদকে বারংবার সতর্ক করা হলেও কেন্দ্রীয় সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া সংকটকালীন সময়ে মরক্কোর কর্তৃপক্ষ সিউতার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। স্পেনের নিরাপত্তা বাহিনী এখনো পর্যাপ্ত শক্তি নিয়ে শহরটিতে মোতায়েন করা হয়নি বলেও অভিযোগ তুলেছেন ভিভাস।
ঘটনার দায় অস্বীকার করে মরক্কো দাবি করেছে, স্পেনের আদালতের এক রায়ের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ওই রায়ে উল্লেখ ছিল, ভৌত সীমানা অতিক্রম না করা অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কার করা যাবে না। অন্যদিকে, সিউতার স্থানীয় প্রশাসন এই মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় অনিয়মিত অভিবাসীদের অবিলম্বে বহিষ্কারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে। ভিভাস উদ্বেগের সঙ্গে জানিয়েছেন, সিউতার সীমান্ত এখন সম্পূর্ণ অরক্ষিত এবং বহির্শত্রুর অনুপ্রবেশের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
