প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে প্রাতঃরাশ ও সৌজন্য সাক্ষাতে তৃণমূল সাংসদদের প্রতিনিধি দল

দিল্লির মসনদে বসে থাকা ভারতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনে সম্প্রতি এক জাঁকজমকপূর্ণ প্রাতঃরাশ সভায় মিলিত হলেন টলিউডের গ্ল্যামার দুনিয়া থেকে উঠে আসা একঝাঁক তারকা সাংসদ। শতাব্দী রায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং জুন মালিয়ার মতো জনপ্রিয় মুখদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ঘিরে বিনোদন ও রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতুহল। পূর্ব ভারতের সার্বিক উন্নয়নের রূপরেখা এবং বাংলার সম্ভাবনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, তা উপস্থিত সাংসদদের মধ্যে এক ইতিবাচক উদ্দীপনা ছড়িয়ে দিয়েছে।
বৈঠকের এক পর্যায়ে মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়া বাংলার ঐতিহ্যবাহী কাঁথা স্টিচের একটি সুনিপুণ উত্তরীয় উপহার হিসেবে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রীর হাতে। এই বিশেষ মুহূর্তটিকে স্মৃতিতে ধরে রেখে জুন মালিয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই সাক্ষাৎ কেবল সম্মানজনকই নয়, বরং এক পরম সৌভাগ্যের বিষয়। বাংলার অপার সম্ভাবনা এবং এখানকার মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তি সম্পর্কে মোদীর অগাধ বিশ্বাস দেখে মুগ্ধ হয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, আগামী দিনে বাংলা তার হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও উন্নয়নের উজ্জ্বল প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বিশ্বমঞ্চে পুনরায় আবির্ভূত হবে।
আলোচনার আড্ডায় রাজনীতির পাশাপাশি উঠে এসেছে স্বাস্থ্য সচেতনতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও। প্রধানমন্ত্রী এদিন উপস্থিত তারকা সাংসদদের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, দেশের সেবায় নিজেকে নিবেদিত করতে হলে ব্যক্তিগত শারীরিক সুস্থতা সবার আগে প্রয়োজন। প্রতিদিনের রুটিনে যোগব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তোলা এবং বছরে অন্তত একবার সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর যে পরামর্শ মোদী দিয়েছেন, তাকে ‘হেলথ ইজ ওয়েলথ’ মন্ত্র হিসেবেই গ্রহণ করেছেন সাংসদরা।
এই সৌজন্য সাক্ষাতের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও ঘরোয়া। দীর্ঘ ব্যস্ততার ফাঁকে প্রধানমন্ত্রীর এই আন্তরিক আপ্যায়ন মুগ্ধ করেছে সবাইকে। সাংসদ শতাব্দী রায় সংবাদমাধ্যমের সামনে বৈঠকের সেই হালকা মেজাজের কথা উল্লেখ করে জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চা-চক্রের আড্ডায় পায়েসসহ বিভিন্ন উপাদেয় খাবারের স্বাদ নিয়েছেন তাঁরা। দেশের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এই শীর্ষ নেতার দিকনির্দেশনা ও উৎসাহকে পাথেয় করেই ভবিষ্যতে রাজ্যের উন্নয়নে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন তারকারা।
