রোমে ইসরায়েল ও লেবানন শান্তি আলোচনায় অচলাবস্থা কাটেনি হেজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুতে

লেবাননের দক্ষিণ সীমান্ত থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার এবং হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রোমে দ্বিতীয় দিনের মতো উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে বিদ্যমান মতপার্থক্যের কারণে এই বৈঠক থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বড় ধরনের সাফল্যের সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আনাদোলু এজেন্সির তথ্যানুযায়ী, সামগ্রিক আলোচনার সপ্তম এই পর্বে রাজনৈতিক ও সামরিক—উভয় পথেই উভয় পক্ষ তাদের অবস্থান তুলে ধরছে।
বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা কাঠামো এবং হিজবুল্লাহর অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ন্ত্রণ। আলোচনার এক পর্যায়ে ইসরায়েলি প্রতিনিধিদল প্রথমবারের মতো তাদের পুরনো দাবি থেকে কিছুটা সরে এসে জানিয়েছে যে, সীমান্ত সংক্রান্ত আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি আর বাধ্যতামূলক নয়। এর আগে, জুনে স্বাক্ষরিত একটি কাঠামোগত চুক্তির ভিত্তিতে এই আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
আলোকিত উচ্চভূমি হিসেবে পরিচিত আলি তাহের হিল নিয়ে বর্তমান উত্তজনা তুঙ্গে রয়েছে, যেখানে হিজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টার ও ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভাণ্ডার রয়েছে বলে ইসরায়েলের দাবি। ইসরায়েল চায় লেবাননের সেনাবাহিনী ওই এলাকা সুরক্ষিত করুক এবং হিজবুল্লাহর অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দিক। অন্যদিকে বৈরুতের ভাষ্য, ওই এলাকায় বর্তমানে কোনো ইসরায়েলি বাহিনী নেই যে তাদের স্থলাভিষিক্ত হতে হবে। ইতালিকে এই প্রত্যাহারের যাচাইকারী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে।
লেবানন কর্তৃপক্ষ খিয়াম বা বিনতে জুবাইলকে পাইলট জোন হিসেবে বেছে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে লেবাননি সেনারা পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হিজবুল্লাহর প্রত্যাবর্তন ঠেকাবে এবং বিনিময়ে ইসরায়েলি বাহিনী পর্যায়ক্রমে পিছু হটবে। তবে গত সপ্তাহে ঐতিহাসিক বিউফোর্ট ক্যাসেলের চারপাশে ইসরায়েলি ধ্বংসযজ্ঞ ও বোমা হামলার ঘটনায় লেবানন তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। দেশীয় অর্থনীতি যখন ধুঁকছে, তখন দীর্ঘমেয়াদী শান্তি চুক্তির প্রত্যাশা ও যুদ্ধের ভয়াবহতা নিয়ে লেবাননের সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র বিভাজন ও সংশয় কাজ করছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শক্তির ভারসাম্য ইসরায়েলের দিকে ঝুঁকে থাকায় লেবানন মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের ওপরই নির্ভরশীল। হিজবুল্লাহ সরাসরি এই আলোচনায় অংশ না নিলেও তারা স্পষ্ট করেছে যে লিটানি নদীর দক্ষিণ থেকে সরে গেলেও উত্তরের অবস্থান থেকে তারা অস্ত্র ত্যাগ করবে না। উল্লেখ্য, মার্চ মাস থেকে চলমান ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে ৪ হাজার ৩৩৩ জন নিহত হয়েছেন এবং ঘরছাড়া হয়েছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
