AdvertisementAdvertisement

তীব্র তারল্য সংকটে ইরাক মাসিক বেতন পরিশোধে প্রয়োজন ৮.২৪ বিলিয়ন ডলার

ইরাকের চলমান তীব্র আর্থিক সংকট নিয়ে দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী আব্দুল হোসেন আল-মুসাউইয়ের সাম্প্রতিক এক অকপট স্বীকারোক্তি জনমনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বাগদাদে আয়োজিত এক সভায় তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, রাষ্ট্রীয় কোষাগারে এখন আর পর্যাপ্ত অর্থ নেই। সরকারের উচ্চপর্যায়ের কোনো মন্ত্রীর মুখ থেকে এমন স্পষ্ট বক্তব্য এই প্রথম, যা দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতির ভয়াবহ চিত্রকেই সামনে নিয়ে এসেছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় বেতন-ভাতা প্রদানকেই বর্তমানে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি বেতন এবং মৌলিক দায়বদ্ধতা মেটানোর জন্য প্রতি মাসে ইরাকের প্রায় ১০.৮ ট্রিলিয়ন দিনার বা ৮.২৪ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি তেল রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটির আয়ের প্রধান উৎস মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে, যা একক পণ্যের ওপর নির্ভরশীল অর্থনীতির অসারতাকে আবারও স্পষ্ট করেছে। মে ও জুন মাসে সরকারের মাসিক আয় ৩ ট্রিলিয়ন দিনারের বা ২.৩ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গেছে, যা বেতনের বিশাল ব্যয়ের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এই আর্থিক সংকটের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে। আমিরা আলি নামে একজন সরকারি কর্মচারী আল-জাজিরাকে জানান, বেতন বিলম্বিত হওয়ায় অনেক পরিবার তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। বাশার সাব্বার নামের আরেক কর্মী শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত নাগরিকদের দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দিয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের দিকে ঝুঁকছে। সরকারের পক্ষ থেকে ব্যয় সংকোচন নীতি গ্রহণের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যার আওতায় খাদ্য রেশনিং কার্ডের সুবিধাভোগীর সংখ্যা ২৭ মিলিয়ন থেকে কমিয়ে ২০ মিলিয়নে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এছাড়া বাণিজ্যে বরাদ্দ ১২ ট্রিলিয়ন দিনার থেকে কমিয়ে ৭ ট্রিলিয়ন দিনারে নামিয়ে আনার চিন্তাভাবনা চলছে। বিদ্যুতের বিল আদায় কার্যক্রমে চরম ব্যর্থতা এবং অদক্ষতা রাষ্ট্রীয় আয়ের বড় একটি অংশকে নষ্ট করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির নেতৃত্বাধীন সরকার দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবে ‘ডেভেলপমেন্ট রোড’ প্রকল্পের ওপর গুরুত্ব দিলেও, ভূ-রাজনৈতিক সংকটে তা মুখ থুবড়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেল-নির্ভরতার বেড়াজাল থেকে বের হতে না পারলে প্রতিটি বৈশ্বিক সংকটে ইরাককে এভাবে নজিরবিহীন আর্থিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হবে। রাষ্ট্রীয় কোষাগারের এই টানাপোড়েন এখন শুধুমাত্র দাপ্তরিক বিষয় নয়, বরং প্রতিটি ইরাকি নাগরিকের বেঁচে থাকার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%