তনু হত্যা মামলার আসামি হাফিজুরের আত্মসমর্পণ না করায় গ্রেপ্তারের নির্দেশ

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার অন্যতম সন্দেহভাজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য হাফিজুর রহমান উচ্চ আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা অতিক্রান্ত হলেও তিনি আইন অনুযায়ী আদালতে হাজির হননি। কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ জেল সুপার শাহ আলম খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশটি আগামী ৯ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিত করেন। একই সঙ্গে আদালত হাফিজুর রহমানকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাকে দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, হাইকোর্ট গত ২ আগস্ট হাফিজুর রহমানকে জামিন প্রদান করলে ৪ আগস্ট তিনি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষ ওই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করলে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন। এ ঘটনায় মামলার বিচারিক কার্যক্রম ও আসামির অবস্থান নিয়ে আইন অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসামি আত্মসমর্পণ না করায় তনুর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। নিহতের স্বজনরা আশঙ্কা করছেন, জামিনে থাকা আসামি আত্মগোপনে গিয়ে দেশত্যাগের চেষ্টা করতে পারেন। এ পরিস্থিতিতে অপরাধীর অবস্থান নিশ্চিত করে তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তনুর পরিবার ও স্থানীয়রা।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতর থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনুর মরদেহ পাওয়ারহাউস এলাকার ঝোপ থেকে উদ্ধার করা হয়। পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ সময় পার হলেও এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
