AdvertisementAdvertisement

অসুস্থতা নিয়ে দেশবাসীর দোয়া চাইলেন নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের অগ্রপথিক ইলিয়াস কাঞ্চন

ঢালিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ও নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রাণপুরুষ ইলিয়াস কাঞ্চন আবারো পাদপ্রদীপের আলোয়, তবে এবার কোনো সিনেমার সেটে নয়, বরং জীবনের এক কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। দীর্ঘ সময় বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকার পর সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন তিনি। শুক্রবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় আয়োজিত নিসচার ১১তম মহাসমাবেশে উপস্থিত হয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন এই গুণী অভিনেতা। নিজের অসুস্থতার কথা স্বীকার করে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, শরীরের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে তার স্বপ্নের এই আন্দোলন।

৩৩ বছর আগে ব্যক্তিগত শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে যে আন্দোলনের বীজ তিনি বুনেছিলেন, আজ তা মহীরুহে পরিণত হয়েছে। ইলিয়াস কাঞ্চনের ভাষায়, এটি এখন আর তার একক কোনো উদ্যোগ নয়, বরং বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের প্রাণের দাবি। জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়েও তার কণ্ঠস্বরে দৃঢ়তা—তিনি না থাকলেও নিরাপদ সড়কের স্বপ্ন যেন বেঁচে থাকে সাধারণ মানুষের হাত ধরে। সরকার, প্রশাসন, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক—সবাইকে এই জীবন রক্ষার লড়াইয়ে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

চিকিৎসাজীবন এক চরম দুর্বিষহ অভিজ্ঞতার নাম। গত বছরের এপ্রিল মাসে ব্রেন টিউমার ধরা পড়ার পর থেকেই শুরু হয় তার লড়াই। যুক্তরাজ্যের লন্ডনের হাসপাতালে মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার থেকে শুরু করে টানা দেড় বছরের দীর্ঘ ও জটিল চিকিৎসার মধ্য দিয়ে গেছেন তিনি। চিকিৎসকেরা টিউমারের বড় একটি অংশ অপসারণ করতে সক্ষম হলেও ঝুঁকি থেকে গিয়েছিল। পরবর্তীতে ব্রেন ক্যানসারের মতো কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। প্রায় শখানেক কেমোথেরাপি ও দীর্ঘমেয়াদী ওরাল থেরাপি নেওয়ার ক্লান্তি যেন তার চোখেমুখে স্পষ্ট।

তবুও হার মানেননি অকুতোভয় এই যোদ্ধা। শারীরিক অসুস্থতাকে সঙ্গী করেই তিনি আবারো জনকল্যাণমুখী কাজে ফেরার সংকল্প করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, আমরা কেউ কারো প্রতিপক্ষ নই, বরং মানুষের জীবন বাঁচানোর এক একজন সহযোদ্ধা। দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে তিনি বলেছেন, মহান সৃষ্টিকর্তা যেন তাকে আবারো মানুষের পাশে সক্রিয়ভাবে কাজ করার শক্তি ও সুস্থতা দান করেন। তার এই অদম্য মানসিকতা এবং নিরাপদ সড়কের স্বপ্ন বাস্তবায়নের অঙ্গীকার আবারো নতুন করে অনুপ্রাণিত করেছে তার অগণিত ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের।

Advertisement
বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%