AdvertisementAdvertisement

লিবিয়া থেকে আরও ৩৪০ বাংলাদেশির প্রত্যাবর্তন চলতি বছরে মোট সংখ্যা ২৩৩৮ জন

লিবিয়ায় মানবেতর জীবনযাপন ও চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়া আরও ৩৪০ জন বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরে এসেছেন। শুক্রবার দুপুর ১২টায় ফ্লাই ওইয়া এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এ নিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত লিবিয়ার বন্দিশালা ও দেশটিতে অবৈধভাবে অবস্থানরত মোট ২ হাজার ৩৩৮ জন বাংলাদেশিকে সফলভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা হলো।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে লিবিয়া সরকার এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা বা আইওএম গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

দেশে ফেরা এই নাগরিকদের অধিকাংশই মানবপাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে সমুদ্রপথে ইউরোপ পাড়ি দেওয়ার মরিয়া আশায় লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের বড় একটি অংশ অপহরণ, অমানবিক নির্যাতন ও গভীর সংকটের শিকার হন। প্রত্যাবাসনের পূর্বে আইওএম তাদের যাতায়াত ব্যয়, খাদ্য সহায়তা, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী আবাসন ব্যবস্থার দায়িত্ব গ্রহণ করে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

প্রত্যাবাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশ দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে আগ্রহী ব্যক্তিদের ত্রিপোলির সরকারি অভ্যর্থনা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং নিরাপদে দেশে ফেরার শুভকামনা জানান। রাষ্ট্রদূত স্পষ্ট করেন যে, বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে দূতাবাস শুরু থেকেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে।

ভবিষ্যতে যেন আর কেউ মানবপাচারকারীদের প্রলোভনের ফাঁদে পা না দেন, সেজন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে, লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের তিক্ত অভিজ্ঞতা ও জীবনের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে মন্ত্রণালয়। লিবিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে ভবিষ্যতে এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

সম্পর্কিত- লিবিয়া
0%
0%
0%
0%