রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা নিয়ে মনিটরিং কমিটিকে দ্রুত রিপোর্ট জমার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে এবার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আদালত কর্তৃক গঠিত মনিটরিং কমিটিকে আগামী দুই দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে তাদের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। আগামী ১৮ আগস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে, যেখানে রাজ্যের বর্তমান অবস্থান এবং বকেয়া ডিএ নিষ্পত্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চ।
মূলত সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ সম্পূর্ণ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। আর্থিক চাপের কথা মাথায় রেখে ২৫ শতাংশ বকেয়া দ্রুত মিটিয়ে বাকি ৭৫ শতাংশ ধাপে ধাপে পরিশোধের রূপরেখা তৈরির জন্য একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবারের শুনানিতে আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, এই কমিটির সমস্ত পর্যবেক্ষণ ডিজিটাল আকারে সব পক্ষকে হস্তান্তর করতে হবে। এর মাধ্যমে বকেয়া ডিএ প্রদানের বর্তমান অগ্রগতি এবং পরবর্তী পরিকল্পনা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
শুনানি চলাকালীন কর্মচারীদের সংগঠনের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী অভিযোগ করেন যে, ডিএ প্রদানের কথা ঘোষিত হলেও বাস্তবে কর্মীরা এখনও কোনো অর্থ হাতে পাননি। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকার তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে জানায় যে, বিপুল আর্থিক দায়বদ্ধতার কারণে এককালীন পুরো অর্থ প্রদান করা সম্ভব নয়। বর্তমানে সরকার বকেয়া ডিএ-র ৮৫ শতাংশ পরিশোধের প্রস্তাব দিয়েছে এবং ১৫ শতাংশ ছাড়ের আর্জি জানিয়েছে। রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোট চার কিস্তিতে ২০২৮ সালের মধ্যে বকেয়া ডিএ পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
আদালতে পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া ডিএ বাবদ মোট ১১ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা রাজ্যের পাওনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম কিস্তিতে ৭ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলে স্টেটাস রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। অবশিষ্ট অর্থের দ্বিতীয় কিস্তি ২০২৭ সালের জানুয়ারি, তৃতীয় কিস্তি জুলাই এবং চতুর্থ কিস্তি ২০২৮ সালের জানুয়ারি মাসে প্রদানের কথা জানিয়েছে রাজ্য। প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা বর্তমানে ৬০ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন, যেখানে রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক বাজেটে ২০ শতাংশ বৃদ্ধির পর অগাস্ট মাস থেকে কর্মীরা ৩৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন। কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের এই ২২ শতাংশ ব্যবধান পূরণই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
