AdvertisementAdvertisement

আরজি কর তদন্তের শ্লথ গতি ও গাফিলতি নিয়ে সিবিআইকে ভর্ৎসনা কলকাতা হাইকোর্টের

আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে আবারও কলকাতা হাইকোর্টের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়ল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। গত ৭ জুলাই তদন্তভার গ্রহণের পর থেকে অগ্রগতির অভাব নিয়ে এদিন ক্ষোভ প্রকাশ করেন আদালত। শুনানিকালে সিবিআইয়ের আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী কিছুটা সময় প্রার্থনা করলে আদালত অসন্তোষ ব্যক্ত করে এবং তদন্তের ধীরগতি নিয়ে কড়া বার্তা দেয়।

আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সিবিআইয়ের নিজস্ব প্রতিবেদনে তথ্যপ্রমাণ লোপাট এবং মৃতদেহ টেনে আনার মতো চাঞ্চল্যকর বিষয়গুলো উঠে এসেছে। অথচ সংস্থাটি আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশনার মর্মার্থ বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করে হাইকোর্ট। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ঘটনার দিন রাত থেকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কী কী ঘটেছিল, তা নতুন করে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আগের তদন্তের প্রভাবমুক্ত হয়ে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে এই মামলার জট খুলতে সিবিআইকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

মামলার শুনানিতে নির্যাতিতার বাবা-মায়ের আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় ও শীর্ষেন্দু সিংহ রায় তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁরা অভিযোগ করেন, বিগত দুই বছরে সিবিআই ঠিক কী ধরনের তদন্ত করেছে, তার কোনো স্পষ্ট রূপরেখা নেই। ঘটনার রাতে উপস্থিত ১৬ জনের বয়ান এবং ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও তদন্ত প্রক্রিয়া মন্থর। আইনজীবীদের দাবি, পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া অতিরিক্ত হলফনামা অনুযায়ী এগোলে তদন্তে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসত।

জবাবে সিবিআইয়ের আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী জানান, নির্যাতিতার শেষ ডিনারের সঙ্গী জুনিয়র চিকিৎসক সৌমিত্র রায়ের বয়ান রেকর্ড করা এখনও বাকি রয়েছে। প্রতিটি অভিযোগ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে আশ্বস্ত করে তিনি জানান, তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কোনো ত্রুটি থাকলে তা অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে। তবে কেন ওই চিকিৎসককে এখন পর্যন্ত জেরা বা গ্রেপ্তার করা হয়নি, সেই প্রশ্ন তুলেই সরব হয়েছেন বাদীপক্ষের আইনজীবীরা।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আরজি কর হাসপাতালের সেমিনার হল থেকে ওই তরুণী চিকিৎসকের নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় গোটা ভারতজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। পরবর্তীতে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর মামলাটি কলকাতা পুলিশের হাত থেকে সিবিআইয়ের অধীনে ন্যস্ত করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে সঞ্জয় নামক একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হলেও, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য কোনো ব্যক্তিকে সিবিআই এখনও আইনের আওতায় আনতে পারেনি।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%