যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার তলানিতে ট্রাম্প প্রশাসনের অস্বস্তি ও তথ্য ফাঁসকারীদের ধরতে ধরপাকড়ের নির্দেশ

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতের পাঁচ মাস পার হওয়ার পর মার্কিন সামরিক বাহিনীর অস্ত্রের মজুদ নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগ ও বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন এবং এ সংক্রান্ত তথ্য ফাঁসকারীদের কঠোর বিচারের মুখোমুখি করার হুমকি দিয়েছেন।
রয়টার্স ও সিবিএস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের ফলে মার্কিন বাহিনীর সেনাবাহিনীর কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা বা অ্যাটাকমস এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইলের মজুদ প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতির কারণে ভবিষ্যতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে মার্কিন বাহিনীকে ঝুঁকিপূর্ণ বিমান হামলা বা স্বল্প পাল্লার আক্রমণের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্যাট্রিয়ট ও টার্মিনাল হাই অলটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স বা থ্যাড ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ বিপজ্জনকভাবে কমে গেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে সংকটের মুখে ফেলবে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের গত ২৭ জুলাইয়ের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে মার্কিন বাহিনীর কাছে তাদের প্রাক-যুদ্ধকালীন প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ এবং থ্যাড ইন্টারসেপ্টরের অর্ধেক অবশিষ্ট রয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন মেরিন কর্পস কর্নেল মার্ক ক্যানসিয়ান সতর্ক করে বলেছেন, ইন্টারসেপ্টরের এই ঘাটতি চীনের মতো সামরিক পরাশক্তিগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। গত ১৭ জুলাই জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় তিন মার্কিন সেনার নিহতের ঘটনা এই উদ্বেগকে আরও জোরালো করেছে।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অস্ত্র সংকটের বিষয়টি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ মজুদ রয়েছে এবং চাহিদা অনুযায়ী নতুন করে উৎপাদন ও সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই তথ্যের উৎস হিসেবে যারা কাজ করছে, সেই বিশ্বাসঘাতক ‘তথ্য ফাঁসকারীদের’ খুঁজে বের করা হচ্ছে এবং তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড চাওয়া হবে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ অস্ত্র ঘাটতির এই তথ্যকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিলেও ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যাম্প ডেভিডে আয়োজিত এক মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প সরাসরি হেগসেথের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। প্রেসিডেন্টের দাবি, পেন্টাগন প্রধান তাকে অস্ত্রের মজুদ নিয়ে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছেন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট অবশ্য এই খবরকে শতভাগ ভুয়া বলে অভিহিত করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে কেবল জাপান ও জার্মানির প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর উৎপাদনের লাইসেন্স রয়েছে এবং থ্যাড ইন্টারসেপ্টর উৎপাদনের সক্ষমতা অন্য কোনো দেশের নেই। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দিলেও প্যাট্রিয়ট ও থ্যাডের মজুদ যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে কমপক্ষে তিন বছর সময় প্রয়োজন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই অস্ত্রহীনতা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে অকার্যকর করে তুলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
