তীব্র তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় কুকুরের মাংস খাওয়ার অদ্ভুত নিদান কিম জং উনের প্রশাসনের

উত্তর কোরিয়ায় চলমান তীব্র দাবদাহের মধ্যে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভয়াবহ এই গরম থেকে বাঁচতে দেশটির ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির মুখপত্র ‘রোডং সিনমুন’ নাগরিকদের কুকুরের মাংসের স্যুপ খাওয়ার অদ্ভুত নিদান দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, এই খাবার অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং শরীরকে সতেজ রাখতে সক্ষম।
হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুসারে, পিয়ংইয়ং জেনারেল হাসপাতালের একজন চিকিৎসকের পরামর্শের ভিত্তিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেখানে গরমকালে হিটস্ট্রোকসহ নানাবিধ জটিল রোগ এড়াতে তরমুজ, শসা ও মুগ ডালের পাশাপাশি এই বিশেষ স্যুপ খাওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। উত্তর কোরিয়ায় এই খাবারটি ‘দাঙ্গোগি গুক’ বা ‘মিষ্টি মাংসের স্যুপ’ হিসেবে পরিচিত, যা দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী খাবার হিসেবে সেখানে বিবেচিত হয়।
গত ২৭ জুলাই থেকে দেশটিতে তীব্র তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে, যা মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ৩৩ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গণ্ডি ছাড়িয়েছে এবং তা ৪০ ডিগ্রি পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। পিয়ংইয়ং, উত্তর পিয়ংগান ও জাগাং প্রদেশসহ বেশ কিছু এলাকায় ইতিমধ্যেই সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ঐতিহ্যগতভাবে উত্তর কোরিয়ায় কুকুরের মাংস শক্তি বর্ধক হিসেবে সমাদৃত হলেও, আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর কোনো কার্যকর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এমনকি দেশটির ভেতরেও এই খাবার বেশ ব্যয়বহুল হওয়ায় সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশের নাগালের বাইরে। রাজধানীতে এই খাবারকে ঘিরে রন্ধন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হলেও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে তা সবার জন্য সহজলভ্য নয়।
প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়া যখন জলবায়ুজনিত প্রতিকূলতায় ভুগছে, তখন তারা সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী ও মানবিক অবস্থান গ্রহণ করেছে। ২০২৪ সালে একটি ঐতিহাসিক আইন পাসের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়া কুকুর পালন, জবাই এবং মাংসের বাণিজ্যিক বিপণন নিষিদ্ধ করেছে। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই আইনের লঙ্ঘনকারীকে সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড কিংবা ৩ কোটি ওন জরিমানার কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
