AdvertisementAdvertisement

যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের রেকর্ড দামের নেপথ্যে উৎপাদন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি ও সরবরাহ সংকট

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গরুর মাংসের দাম এখন আকাশচুম্বী, যা গত এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ মূল্যস্ফীতির হারের তুলনায় এই বৃদ্ধির হার তিন গুণেরও বেশি। তবে এই বাড়তি দামের সুফল প্রান্তিক পর্যায়ের গবাদিপশু খামারিদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় রেকর্ড মূল্যে পণ্য বিক্রির পরেও খামারিরা লাভের মুখ দেখতে হিমশিম খাচ্ছেন।

সাউথ ডাকোটার গবাদিপশু খামারি এরিক গ্রপার জানান, নিলামে এখন তাঁর ৬০০ পাউন্ড বা প্রায় ২৭২ কেজি ওজনের বাছুর ২ হাজার ৫০০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে, যা দুই বছর আগের তুলনায় প্রায় ৫০০ ডলার বেশি। কিন্তু এই রেকর্ড আয়ও উৎপাদন খরচ মেটাতে গিয়ে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। খামারের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, জ্বালানি এবং পশুখাদ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় খামারিদের মুনাফা তলানিতে ঠেকেছে। করের হিসাবের খাতায় আয় বেশি মনে হলেও দিনশেষে পকেটে কিছুই অবশিষ্ট থাকছে না।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

গবাদিপশুর এই সংকট এবং উচ্চমূল্যের পেছনে প্রধান কারণ যুক্তরাষ্ট্রে গবাদিপশুর সংখ্যা কমে যাওয়া। খরা এবং বিভিন্ন রোগের প্রভাবে দেশটিতে গরুর সংখ্যা ১৯৫১ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এর ফলে খামারিদের বাড়তি খরচ করে পানির জোগান নিশ্চিত করতে হচ্ছে। একই চিত্র দেখা যাচ্ছে ফিডলট এবং মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রগুলোতে। বড় বড় প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও রেকর্ড দামে গরু কিনে লোকসানের মুখে পড়ছে।

মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রায় ৮৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে চারটি প্রতিষ্ঠান—টায়সন, জেবিএস, কারগিল ও ন্যাশনাল বিফ। কিন্তু উচ্চ উৎপাদন খরচের কারণে তাদের মুনাফায়ও ধস নেমেছে। টায়সন গত মে মাসে জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে গরুর মাংসের ব্যবসায় তারা ৫০ কোটি ডলারের বেশি লোকসান গুনেছে। সরবরাহের ঘাটতির কারণে কারখানাগুলোতে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যা প্রতিটি ইউনিট প্রতি উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

খুচরা বাজারে বা রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরাও একই সংকটে আবর্তিত হচ্ছেন। বার্গার রেস্তোরাঁর মালিকরা একদিকে কিমার উচ্চমূল্যের চাপে পিষ্ট হচ্ছেন, অন্যদিকে গ্রাহক হারানোর ভয়ে পণ্যের দাম বাড়িয়ে সমন্বয় করতে পারছেন না। ফলে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থা জুড়ে অর্থের লেনদেন বাড়লেও অতিরিক্ত মুনাফা কারো হাতেই থাকছে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের দ্রুত সমাধানের কোনো সুযোগ নেই। গবাদিপশু উৎপাদনের প্রাকৃতিক চক্র দীর্ঘ হওয়ায় বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে অন্তত তিন বছর সময় লাগতে পারে। এরিক গ্রপারের মতে, গরু রাতারাতি উৎপাদন সম্ভব নয়, তাই সরবরাহ সংকট কাটানোর প্রক্রিয়াটি ধীরগতির হওয়ার আশঙ্কাই প্রবল। উৎপাদন ব্যয় হ্রাস না পাওয়া পর্যন্ত পুরো খাতের অস্থিরতা এবং উচ্চমূল্যের এই চক্র অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

0%
0%
0%
0%