ধামরাইয়ে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক

ঢাকার ধামরাই উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের গোমগ্রাম এলাকায় পারিবারিক কলহের জের ধরে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা পপি রানী সরকার নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার বিকেলে নিজ বাড়িতে স্বামী লিটন সরকারের হাতে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হন তিনি। স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কালামপুর হলি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত পপি রানী সরকার একই এলাকার নরেশ সরকারের ছেলে লিটন সরকারের স্ত্রী। প্রায় আট বছর আগে তাদের বিয়ে হয় এবং এই দম্পতির সংসারে তিন ও পাঁচ বছর বয়সী দুটি সন্তান রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, অভিযুক্ত লিটন সরকার দীর্ঘকাল ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। এই দাম্পত্য কলহের জেরে এর আগেও কয়েক দফা স্থানীয় পর্যায়ে সালিশ বৈঠক হয়েছে।
ঘটনার পর নিহতের মরদেহ বাড়িতে আনা হলে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত লিটন সরকারকে অবরুদ্ধ করে ফেলেন এবং পরবর্তীতে পুলিশে সোপর্দ করেন। খবর পেয়ে ধামরাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতপূর্বক ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
পুলিশ পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযুক্ত লিটন সরকারকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা দোষী লিটন সরকারের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
