AdvertisementAdvertisement

আপত্তিকর কনটেন্টের অভিযোগে অ্যাপ স্টোর থেকে সাময়িকভাবে টেলিগ্রাম সরিয়ে নিল অ্যাপল

অ্যাপলের নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি অ্যাপ স্টোর থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল জনপ্রিয় বার্তা আদান-প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রামকে। তবে বিতর্কিত ও আপত্তিকর কনটেন্ট দ্রুত অপসারণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীকে নিষিদ্ধ করার পর অ্যাপটি পুনরায় সচল করা হয়। প্রযুক্তি বাজারে অ্যাপলের কঠোর নিয়ন্ত্রণ নীতি এবং বৃহৎ প্ল্যাটফর্মগুলোর পরিচালন স্বাধীনতা নিয়ে এই ঘটনা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের বিষয়টি মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছে টেলিগ্রাম কর্তৃপক্ষ। অ্যাপলের একজন মুখপাত্র জানান, তাদের নিয়মিত পর্যালোচনায় টেলিগ্রামে শিশু সুরক্ষা নীতিমালা পরিপন্থী আপত্তিকর উপাদানের উপস্থিতি মেলায় অ্যাপটি সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল। এর আগে ২০১৮ সালেও একই ধরনের নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগে টেলিগ্রামকে সরিয়ে নিয়েছিল অ্যাপল, যা তৎকালীন সময়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভ ‘অনুপযুক্ত বিষয়বস্তু’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিশ্বজুড়ে বর্তমানে টেলিগ্রামের প্রতি মাসে সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১ বিলিয়নেরও বেশি। প্ল্যাটফর্মটি দাবি করেছে যে, ক্ষতিকর কনটেন্টের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর এবং চলতি বছরেই তারা এ ধরনের নীতি পরিপন্থী কার্যক্রমের দায়ে প্রায় ৩ লাখ ৩৮ হাজার গ্রুপ ও চ্যানেল বন্ধ করে দিয়েছে। তা সত্ত্বেও বিশ্বব্যাপী নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কঠোর নজরদারির মুখে রয়েছে এই বিশ্বখ্যাত যোগাযোগ অ্যাপটি।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এদিকে অ্যাপলের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন জনপ্রিয় ফোর্টনাইট গেমের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এপিক গেমসের প্রধান নির্বাহী টিম সুইনি। দীর্ঘদিন ধরে অ্যাপলের সাথে আইনি লড়াইয়ে লিপ্ত থাকা এই প্রযুক্তি ব্যক্তিত্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ লিখেছেন, মাত্র একজন ব্যবহারকারীর বেআইনি কাজের জন্য শত কোটি গ্রাহকের একটি প্ল্যাটফর্মকে নিষিদ্ধ করা অযৌক্তিক। এই নীতি বজায় থাকলে অ্যাপলের নিজস্ব যোগাযোগ অ্যাপ ‘আইমেসেজ’ও গ্রাহকসেবা সচল রাখতে পারবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

টেলিগ্রামের বিরুদ্ধে এমন আইনগত ও নীতিগত অবহেলার অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে যুক্তরাজ্যের টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘অফকম’ শিশু সুরক্ষায় অবহেলার অভিযোগে টেলিগ্রামের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। এ ছাড়া গত ফেব্রুয়ারিতে শিশু নির্যাতন ও উগ্রপন্থী কনটেন্ট প্রতিরোধে গৃহীত ব্যবস্থার তথ্য দিতে বিলম্ব করায় অস্ট্রেলিয়ার অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা টেলিগ্রামকে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা করেছিল।

0%
0%
0%
0%