কিয়েভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, অগ্নিদগ্ধ বহুতল ভবনসহ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বুধবার ভোরে ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এই হামলার ফলে নগরীর ওবোলন জেলায় ২০ তলা বিশিষ্ট একটি আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসন জানিয়েছে, নগরীর দুটি ভিন্ন জেলায় বেশ কিছু গুদামঘরেও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় হতাহতের সংখ্যা নিরূপণে কাজ চলছে তবে পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে সতর্ক করা হয়েছে। চলমান এই সংঘাতের তীব্রতা যে কোনো পর্যায়েই কমছে না, বরং চলতি সপ্তাহে রাশিয়া ও ইউক্রেনে পৃথক হামলায় অন্তত ২৭ জনের প্রাণহানির ঘটনায় তা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠল।
ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দীর্ঘ সময় ধরে পশ্চিমা মিত্রদের কাছে আরও বেশি সংখ্যায় মার্কিন প্যাট্রিয়ট মিসাইল ইন্টারসেপটর সরবরাহের আহ্বান জানিয়ে আসছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, পর্যাপ্ত ইন্টারসেপটরের অভাব রাশিয়াকে বেসামরিক মানুষের জীবনহানি ঘটানোর মতো ধ্বংসাত্মক হামলা চালাতে উৎসাহিত করছে। গত মঙ্গলবার নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকেও প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ইউক্রেনের মাটিতে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের অনুমোদনের জন্য জোর তদ্বির চালিয়েছেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা ইউক্রেনে বেসামরিক নাগরিক মৃত্যুর ক্রমবর্ধমান হারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে বর্তমানে বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি জানিয়েছে। পাঁচ বছর ধরে চলা এই দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের কোনো শান্তিপূর্ণ সমাধান এখনো দৃশ্যমান নয়।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
