AdvertisementAdvertisement

অভিবাসন ঠেকাতে যুক্তরাজ্যের রিফর্ম পার্টির নৌবাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা নিয়ে কূটনৈতিক উত্তেজনার আশঙ্কা

যুক্তরাজ্যের ডানপন্থী রাজনৈতিক দল রিফর্ম ইউকে ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে আসা অভিবাসীদের রুখতে ‘অপারেশন ফোর্টেস’ বা ‘দুর্গ অভিযান’ নামক একটি বিতর্কিত পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। দলটির নেতা নাইজেল ফারাজ প্রস্তাব করেছেন যে, নৌবাহিনী মোতায়েন করে অভিবাসীদের বহনকারী নৌকাগুলো মাঝপথ থেকে আটকে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের যাত্রার শুরুর স্থানে ফেরত পাঠানো হবে। তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকরা এই পরিকল্পনাকে অবাস্তব, বিপজ্জনক এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য বিপর্যয়কর হিসেবে অভিহিত করেছেন।

নাইজেল ফারাজ দাবি করেছেন, এটি কোনো পিছু হটানোর কৌশল নয়, বরং একটি মানবিক ‘উদ্ধার ও প্রত্যাবর্তন’ কার্যক্রম। তার ভাষ্যমতে, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করবে না। তবে রিফর্ম ইউকে-র স্বরাষ্ট্র বিষয়ক মুখপাত্র জিয়া ইউসুফের দাবি, ফ্রান্স অবৈধ অভিবাসীদের যুক্তরাজ্যে পাঠিয়ে দিচ্ছে এবং মেরিন বাহিনীর মাধ্যমে তাদের পুনরায় ফরাসি উপকূলে ফেরত পাঠানো হবে। এই বক্তব্যে ফ্রান্সের সাথে যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক অস্থিরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

সেন্টার ফর মিলিটারি জাস্টিসসহ বিভিন্ন আইন বিশেষজ্ঞ সংস্থার মতে, কোনো রাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীকে অন্য দেশের জলসীমায় প্রবেশ করে লোকজন আটক বা ফেরত পাঠানোর অনুমতি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন দেয় না। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিবাসন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ গবেষক মিহনিয়া কুইবাস সতর্ক করেছেন যে, এমন একতরফা পদক্ষেপ ফ্রান্সের সাথে বিদ্যমান গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও উপকূলীয় টহলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা বন্ধ করে দিতে পারে। এমনকি ফ্রান্স ব্রিটিশ জাহাজগুলোকে প্রতিহত করার চেষ্টাও করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের শরণার্থী আইন বিষয়ক অধ্যাপক সারা সিঙ্গার এই পরিকল্পনাকে সামরিক সম্পদের ‘সম্পূর্ণ অপচয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, দ্রুত বহিষ্কারের এই প্রক্রিয়া যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় আইন অনুযায়ী অগ্রহণযোগ্য, কারণ প্রতিটি আশ্রয়প্রার্থীর আবেদনের আলাদাভাবে আইনি পর্যালোচনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সাবেক নৌ কমান্ডার টম শার্পের মতে, প্রস্তাবটি তাত্ত্বিকভাবে অস্পষ্ট এবং বাস্তবে অত্যন্ত বিপজ্জনক, যা নৌবাহিনীর সদস্যদের আইনি ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্রেক্সিট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্য এখন আর ডাবলিন কনভেনশনের সুবিধা নিতে পারে না, যার মাধ্যমে আগে আশ্রয়প্রার্থীদের প্রথম প্রবেশকারী দেশে ফেরত পাঠানো যেত। লিডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিষয়ক অধ্যাপক সারা উলফ পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, রিফর্ম ইউকে এমন এক পরিস্থিতির সমাধানে এই পরিকল্পনা দিচ্ছে, যা তৈরি করতে দলটি নিজেই অতীতে ভূমিকা রেখেছিল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, দলের আর্থিক কেলেঙ্কারি ও আসন্ন উপ-নির্বাচনের চাপ থেকে দৃষ্টি সরাতে মাইগ্রেশন বা অভিবাসন ইস্যুকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে রিফর্ম ইউকে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%