ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার জবাবে রাজপথে মোকাবিলার হুঁশিয়ারি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির

আগামী ডিসেম্বর মাসে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জন ও প্রচারণা প্রসঙ্গে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ডিসেম্বরে দেশে ফেরার হুমকি দিচ্ছে, আমরা সেই অপেক্ষায় আছি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তারা দেশে ফিরে আসুক, রাজপথেই তাদের মোকাবিলা করা হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, গুম, খুন, নির্যাতন ও অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ থাকার পরও দলটির মধ্যে কোনো অনুশোচনার লেশমাত্র নেই। তিনি বলেন, এত অন্যায় ও অপরাধের পরও তাদের মধ্যে ন্যূনতম লজ্জাবোধ অনুপস্থিত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে তার বয়স ৮২ বছর হলেও দেশের প্রয়োজনে আবারও লড়াইয়ে নামতে তিনি প্রস্তুত।
শহীদ পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসনের বিষয়টি বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, দেশের সামর্থ্যের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে শহীদ পরিবারগুলোকে সহায়তা দেওয়া এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, অন্তত তাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু যেন সঠিকভাবে নিশ্চিত করা যায়।
গণতন্ত্রের গুরুত্ব ও জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা। তিনি মনে করেন, সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্র সুসংহত হয় না, আর গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত থাকলেই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত থাকবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় স্বার্থে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত একটি প্রামাণ্যচিত্রকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলার বিষয়ে তিনি গভীর দুঃখ ও হতাশা প্রকাশ করেন। প্রামাণ্যচিত্রে আবু সাঈদ এবং বেগম খালেদা জিয়ার ছবি না থাকায় যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, সেটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রী ইতোমধ্যে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন। বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতিতে এমন বিশৃঙ্খলা ও স্লোগান দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি উপস্থিত সবার উদ্দেশে বলেন, নেতৃত্বের নির্দেশনা মেনে শৃঙ্খলা বজায় রাখা একান্ত প্রয়োজন। অনেক সময় অনুসারীরা নিজেদের নেতার চেয়েও উগ্র আচরণ করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে শৃঙ্খলা রক্ষার তাগিদ দিয়ে বলেন, এমন আচরণ দেশের জন্য লজ্জাজনক।
